১৮ কোটি টাকার সড়ক ১৮ দিনেই দেবে গেল: কুমিল্লার বুড়িচংয়ে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ

কুমিল্লার বুড়িচংয়ের এম এ গনি সড়কের একটি অংশ সংস্কারের মাত্র ১৮ দিনের মাথায় দেবে গেছে। এই সড়ক সংস্কারে ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও কাজের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার মোহাম্মদ আবুল হোসেন নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছেন এবং দরপত্রের শর্ত উপেক্ষা করেছেন, যার ফলস্বরূপ এই বেহাল দশা।
অভিযোগগুলো হলো:
- রাস্তা নির্মাণে নামমাত্র বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে।
- সড়কের পাশে প্রয়োজনীয় রিটেনিং ওয়াল তৈরি করা হয়নি।
- কিছু অংশে পুরাতন কার্পেটিংয়ের ওপর নতুন কার্পেটিং করা হয়েছে, যা টিকছে না।
- ৫০ মিলিমিটার কার্পেটিংয়ের কথা থাকলেও কোথাও কোথাও ২০-২৫ মিলিমিটার করা হয়েছে।
- ঠিকাদারের লোকজন রাতের আঁধারে নিম্নমানের পিচ দিয়ে কাজ করেছে, যা হাত দিয়ে টানলেই উঠে যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পালপাড়া মুহুরী বাড়ি এলাকায় রিটেইনিং দেয়াল ছাড়াই কাজ শেষ হয়েছে এবং গাজীপুর গ্রামের ব্রাক অফিসের সামনের সড়কটি প্রায় ছয় থেকে আট ইঞ্চি দেবে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা এম এইচ রুবেল ও জোবায়ের আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, লাখো মানুষের স্বপ্নের রাস্তা এমন নিম্নমানের কাজের কারণে মাত্র কয়েকদিনেই ভেঙে পড়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার মোহাম্মদ আবুল হোসেন দেবে যাওয়ার কারণ হিসেবে মাটি সরে যাওয়াকে দায়ী করেন এবং মেরামত করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। রিটেনিং ওয়াল প্রসঙ্গে তিনি জানান, সেগুলো যেকোনো সময় করা যায়। কুমিল্লার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার গোলাম মোস্তফা জানান, ঠিকাদারের কাজ চলমান এবং সমস্যাযুক্ত এলাকাগুলো নতুন করে করা হবে। তিনি আরও বলেন যে, কাজে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই এবং অনিয়ম পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।