আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা: নিহত শতাধিক 'সন্ত্রাসী', আত্মরক্ষার দাবি

পাকিস্তানের পার্লামেন্টারি বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী সম্প্রতি দেশটির সিনেট অধিবেশনে জানিয়েছেন যে, পাকিস্তান আফগানিস্তানের তিনটি প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়ে ১০০ জনেরও বেশি 'সন্ত্রাসীকে' হত্যা করেছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সিনেট অধিবেশনে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরীর মতে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে চলমান সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তান আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের প্রমাণ এবং সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ও প্রশিক্ষণ শিবিরের বিস্তারিত তথ্য তালেবান প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করেছিল। তবে তালেবান সরকার এসব নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। এমনকি তালেবান নাকি সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসনের জন্য পাকিস্তানের কাছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দাবি করেছিল বলেও মন্ত্রী জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন যে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযানগুলো চালানো হয়েছে এবং কোনো বেসামরিক নাগরিককে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবাদ বৃদ্ধির উদাহরণ হিসেবে তিনি ইসলামাবাদের মসজিদে হামলা, যেখানে ৩৫-৩৬ জন নিহত হয়েছিলেন, এবং বাজৌর ও বান্নুতে সামরিক কর্মকর্তা ও সৈন্যদের শাহাদাত বরণের কথা উল্লেখ করেন। তারিক ফজল চৌধুরী দৃঢ়ভাবে দাবি করেন যে, পাকিস্তানে সংঘটিত সব সন্ত্রাসী ঘটনার 'মূল সূত্র' আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত হচ্ছে এবং পাকিস্তান আর এসব সহ্য করবে না। আত্মরক্ষার স্বার্থে আফগানিস্তানে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।