বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) দিঘির কুমির অবশেষে অপসারণ: স্বস্তিতে স্থানীয়রা

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে বসবাসকারী কুমিরটি অবশেষে অপসারণ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে কুমিরটিকে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।
কুমিরটি অপসারণের জন্য বুধবার সকাল থেকেই বন বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাজার এলাকায় অবস্থান নিয়েছিলেন। বেলা ১১টার দিকে দিঘির পূর্ব পাড়ে কুমিরটির উপস্থিতি টের পাওয়া যায় এবং এরপরই এর ধরার কার্যক্রম শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে খাবারের লোভ দেখিয়ে কুমিরটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এরপর বন বিভাগের সদস্যরা এটিকে খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা করান।
উল্লেখ্য, তিন দিন পূর্বে এই কুমিরের আক্রমণে একটি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় দিঘি থেকে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এদিকে, কুমিরটি অপসারণের খবরে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। দিঘিপাড়ের বাসিন্দা কুলসুম বেগম জানান, 'খান জাহানের আমলের কুমিরগুলো শান্ত ছিল, কিন্তু এই কুমিরটিকে নিয়ে আমরা অনেক ভীত ছিলাম। এর কারণে আমরা দিঘিতে নামতে পারতাম না।'
কুমির বিশেষজ্ঞ আজাদ কবির জানিয়েছেন, 'আমরা কুমিরটিকে সফলভাবে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এটি একটি মাদী কুমির যার ওজন প্রায় ৬০০ কেজি। এটিকে এখন খুলনা রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে পরীক্ষার পর পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, 'জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মাজারের দিঘি থেকে কুমিরটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী এটিকে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। কুমিরটির ভবিষ্যৎ ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আলোচনার মাধ্যমে জানানো হবে।'
#বাগেরহাট #খানজাহানআলীদিঘি #কুমিরঅপসারণ #বন্যপ্রাণী #খুলনা