Economics
১০ মার্চ, ২০২৬
বাংলাদেশে ডলারের দামে হঠাৎ উল্লম্ফন: কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

বাংলাদেশে হঠাৎ করে ডলারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ব্যাংক এবং খোলাবাজার উভয় ক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডলারের বিনিময় হারে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
মূল পরিবর্তনসমূহ:
- ব্যাংকগুলো এখন বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে ডলার কিনছে ১২২ টাকা ৯০ পয়সা দরে, যা আগে ছিল ১২২ টাকা ৩০-৩৫ পয়সা।
- আমদানিতে ডলারের দাম ১২৩ টাকা পর্যন্ত উঠেছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১২২ টাকা ৫০ পয়সা।
- আমদানি এলসি নিষ্পত্তিতে ব্যাংকগুলো ১২২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ৯০ পয়সা চাইছে, যা গত সপ্তাহে ১২২ টাকা ৩০-৩৫ পয়সা ছিল।
- আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের দর ১২২ টাকা ৫৮ পয়সা (গতকাল) এবং খোলাবাজারে ১২৫ টাকা ৭০-৮০ পয়সা পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা গত সপ্তাহে ১২৪ টাকা ৫০-৬০ পয়সা ছিল।
দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণসমূহ:
- ঈদের ছুটি: আসন্ন টানা সাত দিনের ব্যাংক ছুটির কারণে এলসি পরিশোধের চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে গেছে।
- মধ্যপ্রাচ্য সংকট: ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে শিল্পকারখানা ও ব্যাংক শাখা বন্ধ থাকায় বিদেশি রেমিট্যান্স হাউসগুলো ডলারের জন্য বেশি দাম প্রস্তাব করছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও উদ্বেগ:
এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তা পর্যায়ে সরাসরি প্রভাব ফেলবে এবং দেশে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। একটি বেসরকারি ব্যাংকের ডেপুটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এখনই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ডলার সংকট তৈরি না হয়। তিনি উল্লেখ করেন, গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ডলার বাজার স্থিতিশীল ছিল এবং কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়নি।
#ডলারেরদাম #বাংলাদেশব্যাংক #বৈদেশিকমুদ্রা #মূল্যস্ফীতি #অর্থনীতি