বগুড়া মাদ্রাসায় নৈশপ্রহরী নিয়োগে ৬ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

বগুড়া সদর উপজেলার কৈচড় সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসায় নৈশপ্রহরী নিয়োগে ৬ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী নাজির হোসেন নামের এক ব্যক্তি এই নিয়োগ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াজেদ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন, যার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কবীর।
নাজির হোসেন অভিযোগ করেন যে, নিয়োগ পরীক্ষার তিন দিন আগে মাদ্রাসার সভাপতি রেজাউল হক ও সুপার লুৎফর রহমান তার কাছে ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। তিনি এত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে, পরে জানতে পারেন যে রাজু নামের এক ব্যক্তিকে ৬ লক্ষ টাকা ঘুষের বিনিময়ে নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিন জানান, মাদ্রাসার সভাপতি ও সুপারের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে এবং নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে তারা অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করছেন।
অভিযুক্ত সভাপতি রেজাউল হক ও সুপার লুৎফর রহমান ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন যে, নিয়োগপ্রাপ্ত রাজু মাদ্রাসার উন্নয়ন ফি হিসেবে ৬ লক্ষ টাকা দিয়েছেন, যা ঘুষ নয় বরং দান। তারা আরও জানান যে, এই টাকার একটি অংশ ডিজির প্রতিনিধি ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সম্মানি হিসেবে দেওয়া হয়েছে এবং বাকি টাকা ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।
তবে, ডিজির প্রতিনিধি ইসমাইল হোসেন এবং তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন যে, তাদের দেওয়া সম্মানি ন্যূনতম ছিল এবং টাকার পরিমাণ সম্পূর্ণ মনগড়া ও মিথ্যা।
বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল ওয়াজেদ বিষয়টি তদন্তাধীন বলে জানিয়েছেন।
#বগুড়া #মাদ্রাসানিয়োগ #ঘুষবাণিজ্য #দুর্নীতি #তদন্ত