National
২৬ মে, ২০২৬

বিআরটিএ-এর নামে প্রতারণা: স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক মামলার ভুয়া বার্তা সম্পর্কে সতর্ক থাকুন

বিআরটিএ-এর নামে প্রতারণা: স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক মামলার ভুয়া বার্তা সম্পর্কে সতর্ক থাকুন

বেসরকারি চাকরিজীবী মাহফুজ পলাশ, যিনি ঢাকার মিরপুরে বসবাস করেন, সম্প্রতি একটি অপ্রত্যাশিত বার্তা পেয়েছেন। দুই দিন আগে তার ফোনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এর নামে একটি এসএমএস আসে। এই বার্তায় উল্লেখ করা হয় যে, তিনি নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন করেছেন এবং বিআরটিএ তাকে জরিমানা করেছে। বার্তাটিতে আরও বলা হয় যে, এই জরিমানা পরিশোধ না করা হলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পলাশ বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, "আমি দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকা শহরে নিজেই গাড়ি চালাচ্ছি। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে আমার যথেষ্ট ধারণা রয়েছে। আমার কাছে এই ধরনের বার্তা আসার কোনো কারণ নেই, তা আমি নিশ্চিত।"

সম্প্রতি, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রাস্তায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন স্থানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি এবং স্বয়ংক্রিয় মামলা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কোনো গাড়ি বা যানবাহন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে।

পলাশ আরও জানান যে, তার কাছে আসা এই বার্তাটি ঠিক একই সময়ে তার পরিচিত আরও কয়েকজনকেও পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই বার্তাটিকে সত্যি মনে করে প্রতারিতও হয়েছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যাদের গাড়ি বা যানবাহন রয়েছে, তাদের কাছেই এই ধরনের বার্তা পাঠানো হচ্ছে। তবে, বিবিসি বাংলার কাছে এমনও কিছু ব্যক্তি জানিয়েছেন যে, তাদের কোনো গাড়ি, মোটরসাইকেল বা অন্য কোনো ধরনের যানবাহন না থাকা সত্ত্বেও তারা এই ধরনের বার্তা পেয়েছেন।

গত কয়েকদিনে অনেকের কাছে এই ধরনের বার্তা আসার পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং বিআরটিএ পৃথকভাবে বিবৃতি জারি করে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে। ডিএমপি-র ট্রাফিক বিভাগের প্রধান, অতিরিক্ত কমিশনার আনিসুর রহমান বলেছেন, "এই ধরনের বার্তা পাওয়ার বিষয়ে আমাদের কাছে গত কয়েক দিনে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে।"

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তির নতুন প্রচলনের সুযোগ নিয়েই এই প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। মূলত গ্রাহকদের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার জন্যই এই ধরনের কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। এই কারণে, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং পুলিশ উভয়ই এই ধরনের বার্তা সম্পর্কে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।

বিআরটিএ-এর নামে ভুয়া বার্তা

মাহফুজ পলাশের মতো গণমাধ্যমকর্মী ফৌজিয়া সুলতানার কাছেও এমন একটি বার্তা এসেছে। মজার বিষয় হলো, সুলতানার নিজের কোনো গাড়ি নেই। তবুও তার কাছে মামলার তথ্য জানিয়ে একটি এসএমএস পাঠানো হয়েছে। ওই বার্তাটির শুরুতে লেখা ছিল: 'বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ ট্রাফিক জরিমানার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বিজ্ঞপ্তি'। এরপরই এতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের একটি নম্বর ও তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে।

বার্তার পরবর্তী অংশে বলা হয়েছে: 'আপনার ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের রেকর্ডটি জাতীয় ড্রাইভিং লাইসেন্স ও যানবাহন নিবন্ধন পরিষেবাতে জমা দেওয়া হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় অনুস্মারক পাঠানোর পরেও আমরা আপনার অর্থ পরিশোধ বা আপিল না পাওয়ায়, আপনাকে এতদ্বারা জানানো হচ্ছে যে, সড়ক ট্রাফিক আইন... '। বার্তাটি এখানে শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু মূল উদ্দেশ্য পরিষ্কার।

#ট্রাফিকআইন #বিআরটিএ #প্রতারণা #সাইবারনিরাপত্তা #এআই