National
১০ জুন, ২০২৬

বিধবা ভাতার কার্ডের আশায় আছিয়া বেগমের ভিক্ষাবৃত্তি: জনপ্রতিনিধিদের অবহেলায় হতভাগা

বিধবা ভাতার কার্ডের আশায় আছিয়া বেগমের ভিক্ষাবৃত্তি: জনপ্রতিনিধিদের অবহেলায় হতভাগা

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নে অসহায়ত্বের এক চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আছিয়া বেগম। স্বামী বিগত হওয়ার প্রায় দুই দশক অতিক্রান্ত হলেও, অদ্যাবধি তিনি বিধবা ভাতার কার্ড প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত। বর্তমানে তিনি তার শারীরিক প্রতিবন্ধী পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে জীবনযাপন করছেন।

দক্ষিণ পাঙ্গাসিয়া গ্রামের বাসিন্দা আছিয়া বেগম জানান, ২০০৭ সালে তার স্বামী আবদুল মজিদ হাওলাদার পরলোকগমন করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি চরম অভাব ও অনটনের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। এর উপর, একজন প্রতিবন্ধী সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্বও তার উপর। চরম অভাবের তাগিদে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাকে ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নিতে হয়েছে। আছিয়া বেগমের অভিযোগ, বিধবা ভাতার জন্য তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বছরের পর বছর ঘুরেও কোনো সমাধান পাননি।

এলাকাবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে ধনী বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আত্মীয়-স্বজনরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা লাভ করেন, সেখানে আছিয়া বেগমের মতো একজন প্রকৃত দুস্থ নারী কেন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন? স্থানীয়দের প্রশ্ন, "তিনি ভিক্ষা করেন বলেই কি তাকে অবহেলা করা হচ্ছে, নাকি কার্ড পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে না পারার কারণে তার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না?"

এ বিষয়ে পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম গাজীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, "উনি কি আবেদন করেছেন?" যদিও ভুক্তভোগী এবং স্থানীয়দের দাবি, কার্ড করে দেওয়ার বিষয়ে চেয়ারম্যান পূর্বে একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি। বারবার যোগাযোগ করার পরও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অলিউল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভাতা প্রাপ্তির তালিকা প্রেরণ করা হয়। আমাদের কাছে পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়ন থেকে প্রাপ্ত তালিকায় আছিয়া বেগম নামে কোনো নাম পাওয়া যায়নি। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাম পাঠালে আমরা ব্যবস্থা নেব।

এমএইচ #বিধবাভাতা #ভিক্ষাবৃত্তি #দুমকি #পাঙ্গাসিয়া #জনপ্রতিনিধি #সমাজসেবা