National
৩১ মার্চ, ২০২৬

বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদী থেকে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ, ভাঙনের ঝুঁকিতে জনপদ

বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদী থেকে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ, ভাঙনের ঝুঁকিতে জনপদ

ফতুল্লা থানার ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদী থেকে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। গ্র্যাব ড্রেজার ব্যবহার করে এই মাটি ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। যদিও নদী ড্রেজিংয়ের কোনো অনুমতি নেই, তবুও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং বক্তাবলী নৌ পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এই কার্যক্রম চলছে বলে জানা গেছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ও ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে এই মাটি উত্তোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন আবুল খায়ের, রাসেল প্রধান, মোজাম্মেল, ও মাসুম। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদুর রহমান বন্টিও জড়িত বলে জানা গেছে, যিনি পূর্বেও নদী থেকে মাটি চুরির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

 

বুড়িগঙ্গা নদীর ধর্মগঞ্জ মোহনায় ১১টি এবং ধলেশ্বরী নদীর বক্তাবলী ঘাট এলাকায় ৪টি গ্র্যাব ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় লাখ ফুট মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এই মাটি প্রতি ফুট ৮ টাকায় ইটভাটায় বিক্রি করা হয়। অপরিকল্পিতভাবে মাটি উত্তোলনের ফলে নদীর দুপাশের ফসলি জমি, রাস্তাঘাট এবং গ্রামগুলো ভাঙনের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

 

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন এই অবৈধ মাটি উত্তোলনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, মুষ্টিমেয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিজেদের স্বার্থে নদী ধ্বংস করছে এবং এর ফলে তীরবর্তী এলাকার মানুষ বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. শাহজাহান বক্তব্য দিতে রাজি হননি। বক্তাবলী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এ কে এম আমিনুল হক জানান, তিনি সম্প্রতি যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।

 

#মাটিখেকোসিন্ডিকেট #নদীদখল #অবৈধমাটি #বিএনপি #আওয়ামীলীগ #বিআইডব্লিউটিএ #নৌপুলিশ #ফতুল্লা #বুড়িগঙ্গা #ধলেশ্বরী #ভাঙন #পরিবেশদূষণ