National
১৩ এপ্রি, ২০২৬

ঢাকা জেলা পরিষদ: উন্নয়নের নামে দুর্নীতি ও প্রকল্প লুটপাটের অভিযোগ, নতুন প্রশাসনের জিরো টলারেন্স ঘোষণা

ঢাকা জেলা পরিষদ: উন্নয়নের নামে দুর্নীতি ও প্রকল্প লুটপাটের অভিযোগ, নতুন প্রশাসনের জিরো টলারেন্স ঘোষণা

বিভিন্ন মহলের অভিযোগ উঠেছে যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে উন্নয়নের নামে অনিয়ম, ভুয়া প্রকল্প এবং অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে ঢাকা জেলা পরিষদ 'দুর্নীতির আখড়ায়' পরিণত হয়েছে। শত শত একর জমি হাতছাড়া হওয়া, অর্ধসমাপ্ত মেগা প্রকল্প এবং সরকারি সম্পদের অব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। নতুন প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাস দিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করেছে।

 

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা জেলার পাঁচটি উপজেলা এবং রাজধানীর মোট ২০টি সংসদীয় আসনের আওতাধীন প্রায় ৪০৫ একর জমি বর্তমানে বেদখল অবস্থায় রয়েছে। অতীতে নামমাত্র মূল্যে এসব জমি লিজ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও, বিভিন্ন উপজেলায় একাধিক ডাকবাংলো ও অডিটোরিয়াম বেদখল হয়ে আছে।

 

কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নে প্রায় এক কোটি সাত লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত শহীদ জিয়া অডিটোরিয়াম কাম-কমিউনিটি সেন্টার বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা সেখানে মাছের বাজার বসিয়েছেন। একইভাবে, জিনজিরা ইউনিয়নে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম ২০২৪ সালের আগস্টে লুটপাটের শিকার হওয়ার পর থেকে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে এবং সেখানে মাদক ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ জেলা পরিষদ মার্কেটে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ করে ৬৮টি অবৈধ দোকান বিক্রির অভিযোগও উঠেছে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

 

সবচেয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা জেলা পরিষদের নির্মাণাধীন ২০ তলাবিশিষ্ট অফিস কাম বাণিজ্যিক ভবন ‘ঢাকা টাওয়ার’ প্রকল্প নিয়ে। ২০১১ সালে পুরান ঢাকার জনসন রোডে পুরোনো ভবন ভেঙে এই বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাক্কলিত ব্যয় ১৪৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা থাকলেও, আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আজমের প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনকে প্রায় ১৬০ কোটি ২৬ লাখ টাকায় এককভাবে কাজটি দেওয়া হয়। ২০১৫ সালে নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ১১ বছর পরও প্রকল্পটি অসমাপ্ত অবস্থায় রয়েছে। ইতিমধ্যে ঠিকাদারকে প্রায় ৫৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

 

নির্মাণাধীন ঢাকা টাওয়ার প্রকল্প বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের ২০টি ছাদ নির্মাণ ছাড়া তেমন কোনো কাজ এগোয়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন যে, দোকান বরাদ্দের জন্য শতাধিক ব্যক্তি প্রায় ৬০ কোটি টাকা জমা দিলেও দীর্ঘদিনেও কোনো অগ্রগতি হয়নি এবং তারা তাদের জমা টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে সন্দিহান।

 

জেলা পরিষদের এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে, নির্মাণাধীন ২০ তলা ভবনে দুটি বেসমেন্ট (১৬৬টি কার পার্কিং সুবিধা সহ), প্রথম তলা থেকে অষ্টম তলা পর্যন্ত দোকান, গার্মেন্ট, ইলেকট্রিক, স্বর্ণ, জুয়েলারি, এবং প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় ৩৩৫ আসন বিশিষ্ট দুটি কনভেনশন সেন্টার, নবম তলায় ফুড কোর্ট, এবং দশম তলায় জেলা পরিষদের অফিসসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকার কথা।

 

#ঢাকাজেলাপরিষদ #দুর্নীতি #প্রকল্প #উন্নয়ন #জিরোটলারেন্স