ঢাকার রাস্তায় শত শত ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তি: ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলার নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় যানজট নিরসন ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শত শত ক্যামেরা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত মে মাসে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে ২ হাজারের বেশি ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণকৃত চিত্র ব্যবহার করে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে, এই নতুন পদ্ধতির কার্যকারিতা এবং দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য নিয়ে চালক, ট্রাফিক পুলিশ এবং পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
ট্রাফিক বিভাগ এই পদক্ষেপ নিয়ে আশাবাদী হলেও, সড়কে শৃঙ্খলা আনা এবং যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে কিনা তা নিয়ে চালক ও বিশেষজ্ঞ মহল সংশয় প্রকাশ করেছেন। চালকদের মতে, রাস্তায় নানাবিধ সমস্যা বিদ্যমান। লাইসেন্সধারী ও নিবন্ধিত যানবাহনের উপর কঠোর আইন ও নিয়মকানুনের প্রয়োগ হচ্ছে, কিন্তু তাদের অভিযোগ, অনিবন্ধিত যানবাহন ও লাইসেন্সবিহীন চালকরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে, যারা কিনা সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।
বিশেষজ্ঞরাও একমত পোষণ করে বলছেন যে, নিবন্ধনহীন যানবাহন এবং অনিয়ন্ত্রিত পরিবহন খাতকে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ঢাকা শহরের রাস্তায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এছাড়াও, ঢাকা সহ সারা দেশে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ক্যামেরার মাধ্যমে মামলা পদ্ধতি:
বর্তমানে ঢাকা শহরের প্রধান সড়কগুলোর দশটি পয়েন্ট এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ক্যামেরা ব্যবহার করে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এক্সপ্রেসওয়েতে অতিরিক্ত গতি শনাক্ত করে মামলা শুরু হলেও, ঢাকা শহরে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার চলতি মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশে মূলত ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও মামলা দায়ের করা হতো। আশির দশকে হাতে লেখা স্লিপ দিয়ে মামলা শুরু হয়েছিল, পরে পস মেশিন চালু হয়। উভয় পদ্ধতিতেই ট্রাফিক পুলিশকে সরাসরি উপস্থিত থেকে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে মামলা দায়ের করতে হতো। এখন চালু হয়েছে এআই-ভিত্তিক ই-প্রসিকিউশন সিস্টেম।
এক্সপ্রেসওয়েতে নির্ধারিত গতিসীমা (ঘণ্টায় ৮০ কি.মি.) লঙ্ঘন করলে ক্যামেরায় গাড়ির ছবি তোলা হচ্ছে এবং সেই গাড়ির নিবন্ধিত ঠিকানায় মামলার নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া, নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরেও এসএমএস পাঠানো হচ্ছে।
ডিএমপি'র ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শাহবাগ থেকে জাহাঙ্গীর গেইট পর্যন্ত সড়কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধ শনাক্ত করার পর মামলা দায়ের করা হচ্ছে। আপাতত পাঁচ ধরনের অপরাধ শনাক্তকরণের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে এআই সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে। গাড়ি শনাক্তকরণের জন্য ১০৫টি ক্যামেরা ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে যে এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাবে।
ডিএমপি'র ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, কোন কোন অপরাধ এআই শনাক্ত করবে, সে বিষয়ে সফটওয়্যারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সেই নির্দেশনা অনুযায়ী অপরাধ শনাক্ত করে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা রেড সিগন্যাল লঙ্ঘন, জেব্রা ক্রসিং অতিক্রম করা ইত্যাদি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সাথে দেখছি।’
#ট্রাফিকআইন #এআইপ্রযুক্তি #ঢাকা #যানজট #ক্যামেরা #ইপ্রসিকিউশন