ঢাকায় মহাসড়কে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত

বরিশাল: ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় একটি বেপরোয়া গতির বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘাতক বাসটি ছিল দ্রুতগামী তাজ আনন্দ পরিবহনের।
নিহতরা হলেন উজিরপুর পৌরসভার বাসিন্দা ফিরোজ মাহমুদ (৩৯), তার স্ত্রী মনিরা বেগম এবং তাদের একমাত্র শিশুকন্যা জান্নাত আক্তার। জানা গেছে, ফিরোজ মাহমুদ তার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে উজিরপুরের নিজ বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রমতে, গৌরনদীর বাটাজোর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তীব্র যানজটের কারণে তারা মোটরসাইকেলটি থামিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন দিক থেকে আসা দ্রুতগতির তাজ আনন্দ পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত হন। অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যু হয়।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে ঘাতক বাসটিতে ভাঙচুর চালায়। তবে চালক ও তার সহকারী দুর্ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই ঘটনার জের ধরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে, যার ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসীন নিশ্চিত করেছেন যে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
একই পরিবারের তিন সদস্যের আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রিয়জন হারানোর শোকে আচ্ছন্ন পরিবার ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে।
#ঢাকাবরিশালমহাসড়ক #বাসদুর্ঘটনা #গৌরনদী #নিহত #দুর্ঘটনা