National
১০ জুন, ২০২৬

ধর্ষণের জেরে অগ্নিসংযোগ: দগ্ধ তিনজনের মৃত্যু

ধর্ষণের জেরে অগ্নিসংযোগ: দগ্ধ তিনজনের মৃত্যু

পাবনা সদর উপজেলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যুর খবর আসে। এর একদিন আগে, সোমবার বিকেলে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজনের মৃত্যু হয়েছিল।

নিহতরা হলেন— পাবনা সদর উপজেলার পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের পুত্র সুমন শেখ, নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং মৃত ইউসুফের পুত্র সাপু।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, গত বুধবার বিকেলে পাবনার ভাঁড়ারা এলাকায় পদ্মা নদী থেকে ওই কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পরবর্তী দিন, ৪ জুন, তার দাফন সম্পন্ন হয়। দাফনকার্য শেষ হওয়ার পরপরই উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত আসামিদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এই সময় বাড়িতে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আশেপাশে থাকা বেশ কয়েকজন ব্যক্তি দগ্ধ হন। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটার সময় আসামিপক্ষের কোনো সদস্য বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। দগ্ধ ব্যক্তিরা মূলত প্রতিবেশী, আশেপাশের এলাকার বাসিন্দা এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত উৎসুক জনতা ছিলেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি নিশ্চিত করে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম মঙ্গলবার দুপুরে জানান যে, ঢাকাýের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল একজন এবং আজকের দিনে আরও দুজন মৃত্যুবরণ করেছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পিরপুর গ্রামে পদ্মা নদী থেকে একটি বস্তার মধ্যে ভরা অবস্থায় এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। এই ঘটনায় নিহত কিশোরীর কথিত প্রেমিক নাইমসহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে যে, গ্রেপ্তারের পর আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

#পাবনা #ধর্ষণ #হত্যা #অগ্নিকাণ্ড #দুর্ঘটনা