প্রযুক্তি
৩০ মে, ২০২৬

ঈদের তৃতীয় দিনেও বর্জ্য অপসারণে ধীরগতি: গাবতলী ও দিয়াবাড়ীতে দুর্গন্ধ ও আবর্জনার স্তূপ

ঈদের তৃতীয় দিনেও বর্জ্য অপসারণে ধীরগতি: গাবতলী ও দিয়াবাড়ীতে দুর্গন্ধ ও আবর্জনার স্তূপ

পবিত্র ঈদুল আজহার আজ তৃতীয় দিন। আজকেই শেষ হবে পশু কোরবানির নির্ধারিত সময়। তবে, পশুর কেনাবেচা দুই দিন আগেই আনুষ্ঠানিক ভাবে শেষ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ঈদের দিন শেষ হওয়ার সাথে সাথেই দ্রুততম সময়ে বর্জ্য অপসারণের কথা থাকলেও, রাজধানী ঢাকা শহরের অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর বর্তমান চিত্র ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এর আওতাধীন গাবতলী এবং উত্তরা দিয়াবাড়ী এলাকার পশুর হাটগুলোতে বর্জ্য ও অবকাঠামো অপসারণের কাজে ধীরগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। খড়, পশুর খাদ্য এবং পশুর মলমূত্র থেকে সৃষ্ট তীব্র দুর্গন্ধ পথচারীদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। যদিও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তবুও হাটগুলো এবং এদের পার্শ্ববর্তী সড়ক সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে আরও বেশ কয়েক দিন সময় লেগে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে উত্তরার দিয়াবাড়ী এলাকায় পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশন থেকে শুরু করে সেন্টার স্টেশন পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে এখনো আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। কিছু স্থানে এগুলো স্তূপ আকারে জমা করে রাখা হয়েছে। তবে, উত্তরা দক্ষিণ স্টেশন থেকে উত্তরা উত্তর স্টেশন পর্যন্ত অংশটুকু পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দ্বারা পরিষ্কার করা হয়েছে। সেন্টার স্টেশন থেকে উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত এলাকাতেও বর্তমানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। তবে, এই নির্দিষ্ট সড়কটি ছাড়া উত্তরা দিয়াবাড়ী এবং এর আশেপাশের অন্যান্য সড়কগুলো পশুর মূত্র এবং বিষ্ঠায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। এখানকার দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে, নাকে হাত না দিয়ে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

 

এই এলাকার একজন নিয়মিত পথচারী এবং উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা তমাল ফরায়েজি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঈদের পর তিন দিন অতিবাহিত হয়েছে, কিন্তু এখনো এই রাস্তা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করা যাচ্ছে না। খড় এবং গোবরের তীব্র গন্ধে মনে হচ্ছে যেন এখনো পশুর হাট চলছে। মেট্রো স্টেশনে আসার সময় নিশ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।’

 

অন্য একজন পথচারী ও ব্যবসায়ী জহির মিয়া বলেন, ‘শহরের এত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে এমন পরিস্থিতি কাম্য নয়। সিটি করপোরেশন দ্রুত সবকিছু পরিষ্কার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু ধুলোবালি এবং এই মারাত্মক দুর্গন্ধের কারণে এই রাস্তায় আমাদের যাতায়াত বর্তমানে এক চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

 

প্রধান সড়কগুলো পরিষ্কার হলেও বর্জ্যের দাগ এবং দুর্গন্ধ রয়ে গেছে

 

দুপুরের দিকে রাজধানী ঢাকার প্রধান এবং স্থায়ী পশুর হাট গাবতলীতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এর আশেপাশের সড়কগুলোর চিত্র কিছুটা উন্নত হয়েছে। যদিও গাবতলীতে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলো থেকে বর্জ্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে, তবুও সড়কের উপরিভাগে হলদে এবং কালচে দাগ স্পষ্টভাবে রয়ে গেছে। খড়কুটোও কিছু জায়গায় আটকে আছে, যা থেকে এখনো দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি বা ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার না করার ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

 

গাবতলী হাটের একটি অংশে এখনো কিছু অবিক্রীত পশু দেখতে পাওয়া গেছে। হাটে বাঁশ অপসারণের কাজে নিয়োজিত একজন শ্রমিক জানিয়েছেন, তারা নিজেদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন। তবে, মূল হাটের ভেতরের অংশে কাজ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

ওই কর্মী আরও বলেন, ‘আজ সকাল থেকে আমি একাই ৯২টি বাঁশ সরিয়েছি। আমার মতো আরও কয়েকজন লোক বাঁশ সরানোর কাজ করছে। এরপর প্যান্ডেলগুলো অপসারণ করা হবে। সবশেষে হাট পরিষ্কার করার কাজ শুরু হবে। পুরো হাটের বর্জ্য অপসারণ করতে যথেষ্ট সময় লাগবে। আমার ধারণা, অন্তত এক সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে।’

 

এদিকে, গাবতলী মোড় দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী করিম মজুমদার বলেন, ‘এখন আমি রিকশায় উঠব। চারপাশের পরিস্থিতি দেখলেই তো বুঝতে পারছেন, টুপি...’ (বাক্যটি অসম্পূর্ণ)।

 

#কোরবানি #ঈদুল_আজহা #বর্জ্য_অপসারণ #ঢাকা_উত্তর_সিটি_কর্পোরেশন #গাবতলী #দিয়াবাড়ী