National
২৮ ফেব, ২০২৬

ঈশ্বরদীতে লোমহর্ষক ঘটনা: দাদিকে হত্যা, নাতনিকে ধর্ষণ ও খুন

ঈশ্বরদীতে লোমহর্ষক ঘটনা: দাদিকে হত্যা, নাতনিকে ধর্ষণ ও খুন

পাবনার ঈশ্বরদীতে এক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মধ্যরাতে এক বৃদ্ধা দাদিকে হত্যা করে তার ১৫ বছর বয়সী নাতনিকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া থেকে দাদি সুফিয়া খাতুন (৬৫) এবং নাতনি জামিলা আক্তার (১৫) এর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিবাগত মধ্যরাতে হঠাৎ কান্নাকাটির শব্দ শুনে স্থানীয়রা রাস্তায় বের হলেও পরে শব্দ থেমে গেলে তারা বাড়িতে ফিরে যান। সকালে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত লাশ বাড়ির উঠানে পাওয়া যায়। এরপর জামিলাকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে একটি সরিষার ক্ষেতে বিবস্ত্র অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় জামিলার বাবা ঢাকায় ছিলেন।

এক নিকট আত্মীয় সোহেল রানা জানান, ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণ করতে এসে দাদি টের পেয়ে যাওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়। এরপর নাতনিকে অপহরণ করে সরিষার ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানা পুলিশের ওসি মো. মমিনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, জামিলাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করতে কাজ চলছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি এখন সবার মুখে মুখে।