National
২৮ ফেব, ২০২৬

এক মাসে ১০ বার কাঁপল দেশ: বাড়ছে ভূমিকম্পের উদ্বেগ

এক মাসে ১০ বার কাঁপল দেশ: বাড়ছে ভূমিকম্পের উদ্বেগ

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গত শুক্রবার দুপুরে মাঝারি মাত্রার একটি ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৪ এবং উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা। তবে এই ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে অনুভূত হওয়া এই কম্পন কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়।

 

চলতি মাসেই এ নিয়ে দশমবারের মতো ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশ, যা জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়াচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াৎ কবীর জানিয়েছেন, এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প এবং উৎপত্তিস্থলটি কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। তিনি ঘনঘন ভূমিকম্পকে প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) অবশ্য উৎপত্তিস্থলে কম্পনের মাত্রা ৫.৩ উল্লেখ করেছে। সাতক্ষীরার বাসিন্দারা তীব্র ঝাঁকুনি অনুভব করে আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাসহ অন্যান্য জেলাতেও এই কম্পন অনুভূত হয়।

 

চলতি মাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্প:

  • গত বুধবার: ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫.১ মাত্রার কম্পন, উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার।
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি: ৪.৬ মাত্রার কম্পন, উৎপত্তিস্থল ভারতের সিকিম।
  • ১ ফেব্রুয়ারি: ৩ মাত্রার মৃদু কম্পন, উৎপত্তিস্থল সিলেটের পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে।
  • ৩ ফেব্রুয়ারি: পরপর দুটি কম্পন (৫.৯ ও ৫.২ মাত্রা), উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার; একই দিনে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪.১ মাত্রার আরেকটি কম্পন।
  • ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি: সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুটি কম্পন (৩.৩ ও ৪ মাত্রা)।
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি: সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪.১ মাত্রার কম্পন।

ঘনঘন ভূমিকম্পের প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা বড় ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ভবন নির্মাণে বিধিমালা মেনে চলা এবং প্রস্তুতি জোরদার করা জরুরি। তারা বলছেন, মৃদু কম্পনগুলো বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কি না, তা নিশ্চিত না হলেও সতর্কতা অবলম্বন ও সচেতনতা বৃদ্ধি এখনই প্রয়োজন।

 

উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ নভেম্বর ৫.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে রাজধানীসহ দেশের অনেক জেলা কেঁপে উঠেছিল, যার কেন্দ্রস্থল ছিল নরসিংদী। ওই ভূমিকম্পে ১১ জন নিহত, শতাধিক আহত এবং ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, যা দেশের ভূমিকম্প ঝুঁকির ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দেয়।