International
১২ মে, ২০২৬

ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর ইইউ'র নতুন নিষেধাজ্ঞা

ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর ইইউ'র নতুন নিষেধাজ্ঞা

ফিলিস্তিনিদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ঐকমত্যে পৌঁছেছে, যা ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের লক্ষ্য করে আরোপ করা হবে। হাঙ্গেরিতে সরকার পরিবর্তনের পর কয়েক মাস ধরে এই অচলাবস্থার অবসান ঘটে। ইইউ'র পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘এটি অচলাবস্থা থেকে কার্যকর পদক্ষেপে উত্তরণের সঠিক সময় ছিল। চরমপন্থা এবং সহিংসতার পরিণতি ভোগ করতে হবে।’ বার্তা সংস্থা এএফপি ব্রাসেলস থেকে এই খবর জানিয়েছে।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারো বলেছেন, ইইউ পশ্চিম তীর (West Bank)-এ উগ্র ও সহিংস বসতি স্থাপন কার্যক্রমে জড়িত প্রধান ইসরাইলি সংগঠন এবং তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘এ ধরনের গুরুতর এবং অসহনীয় কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’

ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও বসতি সম্প্রসারণের প্রতিক্রিয়ায় নেওয়া এই পদক্ষেপটি পূর্ববর্তী সময়ে হাঙ্গেরির প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের বিরোধিতার কারণে আটকে ছিল। তবে, জাতীয়তাবাদী নেতা এবং ইসরাইল-পন্থী অরবান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পিটার মাগইয়ারের দায়িত্ব গ্রহণের ফলে ভেটো প্রত্যাহারের পথ সুগম হয়েছে।

ইইউ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, সাতজন বসতি স্থাপনকারী বা বসতি স্থাপনকারী সংগঠনকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে, জোটটি ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপে সম্মত হয়েছে।

ইসরাইল নতুন এই নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (পূর্বতন টুইটার) একটি পোস্টে বলেছে, ‘ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানসহ বিভিন্ন স্থানে জিহাদি উন্মাদনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইউরোপের পক্ষে কাজ করছে, তখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসরাইলি নাগরিক এবং হামাসের মধ্যে একটি মিথ্যা সমতা টেনে নিজেদের নৈতিক দেউলিয়াত্ব প্রদর্শন করেছে।’

ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) ‘ইহুদি বিদ্বেষী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন যে তারা আত্মরক্ষাকারীদের হাত বাঁধার চেষ্টা করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার এক্স-এ একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং কোনো ভিত্তি ছাড়াই ইসরাইলি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইইউ।’

গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে সহিংসতার ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের প্রাণঘাতী হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এগিয়ে নেওয়া হলেও, বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত করার মতো ইসরাইল-বিরোধী আরও পদক্ষেপে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এখনও ঐক্যমত্য হয়নি। ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে, পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিগুলো থেকে আসা পণ্যের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আলোচনা করেছেন। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। #ইউরোপীয়ইউনিয়ন #ইসরাইল #ফিলিস্তিন #বসতিস্থাপন #নিষেধাজ্ঞা