ফরিদগঞ্জে হাঁস চুরির অপমানে যুবকের আত্মহত্যা: সালিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ফরিদগঞ্জের গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামে হাঁস চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৯ বছর বয়সী মাসুম নামে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। সালিশে নাকে খত দেওয়া ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করার অপমানে মাসুম গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বিবরণ:
- গত শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে মাসুম ও তার সহযোগী নয়ন পাটওয়ারী মিলে তিনটি হাঁস চুরি করে এবং ১৪০০ টাকায় বিক্রি করে দেয়।
- শনিবার সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে মাসুমের বাড়িতে কয়েক দফা যুবকদের আনাগোনা হয়।
- রবিবার (৮ মার্চ) সকালে ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে একটি সালিশ বৈঠক বসে।
- সালিশে মাসুমকে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে সবার সামনে নাকে খত দিতে বাধ্য করা হয় এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ:
মাসুমের মা মৌসুমী বেগম জানান, হাঁস চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার দিনভর তার ছেলেকে শাসানো ও মারধর করা হয়। রবিবার সালিশে তাকে ও তার ছেলেকে অপমানজনক কথা বলা হয় এবং সবার সামনে নাকে খত দিতে বাধ্য করা হয়। অপমান সহ্য করতে না পেরেই মাসুম আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের ঘর ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। মাসুমের খালা সুমি বেগম এই মৃত্যুর বিচার দাবি করেছেন।
ইউপি সদস্যের বক্তব্য:
ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান হাঁস চুরির ঘটনায় সালিশের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, বিচারে মাসুমকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং চুরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য নাকে খত দিতে বলা হয়েছিল। পরে তিনি আত্মহত্যার খবর পান এবং পুলিশকে জানান।
পুলিশ রবিবার রাতেই মাসুমের লাশ উদ্ধার করে এবং সোমবার (৯ মার্চ) ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর পাঠায়।
#ফরিদগঞ্জ #আত্মহত্যা #হাঁসচুরি #সালিশ #সামাজিকবিচার