International
২৪ এপ্রি, ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আরোপ: বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন সংকট?

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল আরোপ: বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন সংকট?

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি আদায়ের প্রস্তাব দিয়েছে। এই অর্থ প্রণালির পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে বলে তেহরান দাবি করেছে। পরীক্ষামূলকভাবে ইতিমধ্যেই কিছু জাহাজের কাছ থেকে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য কমপক্ষে ১ ডলার টোল আদায় শুরু হয়েছে।

এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের পরিপন্থী এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশন (আনক্লস) অনুযায়ী বৈধ নয়। যদিও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কেউই আনক্লস স্বাক্ষর করেনি, ওয়াশিংটন ইরানের এই দাবি মানে না। এই ফি আরোপের ফলে দৈনিক প্রায় ২ কোটি ডলার অতিরিক্ত খরচ হতে পারে, যা বছরে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার। এছাড়াও পরিবহন, বীমা ও নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।

এই সংকটের কারণে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭০ ডলার থেকে বেড়ে ১১৯ ডলার বা তার বেশি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম দীর্ঘমেয়াদে ১০০ ডলারের আশেপাশে থাকতে পারে এবং ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই উচ্চ মূল্য স্থায়ী হতে পারে।

ইরানের জন্য এই টোল আয় দেশটির অর্থনীতির জন্য সহায়ক হতে পারে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে। এটি সামরিক শক্তি পুনর্গঠন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু করতেও সাহায্য করবে।

বেলজিয়ামের থিংকট্যাঙ্ক Bruegel মনে করে, সরাসরি টোলের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে খুব বেশি পড়বে না, তবে আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ন্ত্রণের নজির তৈরি ও দীর্ঘমেয়াদে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা এটিকে "ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট" হিসেবে বর্ণনা করেছে। #হরমুজপ্রণালি #ইরান #যুক্তরাষ্ট্র #জ্বালানিসংকট #আন্তর্জাতিকআইন