প্রযুক্তি
২২ এপ্রি, ২০২৬

হৃদরোগ চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত: স্টেনোসিস নয়, রোগ নিয়ন্ত্রণে জোর

হৃদরোগ চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত: স্টেনোসিস নয়, রোগ নিয়ন্ত্রণে জোর

গত দুই দশকে হৃদরোগ চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে করোনারি ধমনির সংকুচিত অংশ (স্টেনোসিস) খুলে দেওয়াই ছিল প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু এখন পুরো করোনারি ধমনিজুড়ে থাকা অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস বা প্লাকজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এটি ‘স্টেনোসিসকেন্দ্রিক’ চিকিৎসা থেকে ‘রোগকেন্দ্রিক’ চিকিৎসায় উত্তরণ।

অতীতে ৭০% বা তার বেশি সংকোচন ধরা পড়লেই তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি বা স্টেন্ট বসানো হতো। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ হার্ট অ্যাটাকের কারণ সেসব প্লাক, যেগুলো খুব বেশি সংকীর্ণতা তৈরি না করলেও হঠাৎ ফেটে গিয়ে রক্তনালিতে ব্লকের সৃষ্টি করে।

বর্তমান চিকিৎসা পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো পুরো করোনারি ধমনির স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং প্লাককে স্থিতিশীল রাখা। এর মধ্যে রয়েছে:

  • ওষুধভিত্তিক সমন্বিত চিকিৎসা: উচ্চমাত্রার স্ট্যাটিন, অ্যান্টিপ্লেটলেট ওষুধ, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন প্লাককে স্থিতিশীল করে।
  • রক্তপ্রবাহভিত্তিক মূল্যায়ন: শুধু চোখে দেখা সংকোচনের ওপর নির্ভর না করে, রক্তপ্রবাহে এর প্রভাব যাচাই করা হয়।
  • আধুনিক ইমেজিং প্রযুক্তি: IVUS ও OCT-এর মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্লাকের গঠন ও ঝুঁকি নির্ণয় করা হয়।
  • সম্পূর্ণ রিভাসকুলারাইজেশন: হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে শুধু দায়ী ধমনি নয়, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্লকগুলোর চিকিৎসাও বিবেচনা করা হয়।

আন্তর্জাতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, স্থিতিশীল করোনারি রোগে সঠিক ওষুধভিত্তিক চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রে শুধু স্টেন্ট বসানোর মতোই কার্যকর। অপ্রয়োজনীয় স্টেন্টিং এড়িয়ে চলা এখন চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্তমান কার্ডিওলজির মূল বার্তা হলো: 'আমরা আর শুধু ব্লক খুলি না, আমরা পুরো করোনারি রোগের চিকিৎসা করি।' হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত চিকিৎসা, নিয়মিত ফলোআপ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।

#হৃদরোগ #করোনারিধমনি #অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস #স্টেন্ট #এনজিওপ্লাস্টি #কার্ডিওলজি #স্বাস্থ্য