ইরানে যুদ্ধের ভয়াবহতা: ১১ বছর পর দেশে ফেরা মামুনের রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের মো. মামুন ১১ বছর পর যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান থেকে দেশে ফিরেছেন। তিনি বলেন, ‘চারিদিকে শুধু বোমা আর বোমা। যেদিকে যাই, সেদিকেই আগুন। বড় বড় গর্ত আর ক্ষত চিহ্নে ভরা ইরান। যেদিকে যাই সেদিকে আতঙ্ক আর উদ্বেগ। চারদিকে শুধুই বিকট শব্দ।’
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ২০ দিন ধরে তিনি এই ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্যে ছিলেন। বোমার শব্দে তার কানে সমস্যা হচ্ছে এবং তিনি ভালোভাবে শুনতে পান না। ঘুমের মধ্যেও বোমার শব্দ শোনেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে একটি রাতও ঘুমাতে পারেননি। প্রতি মুহূর্তে আতঙ্কে থাকেন। মানসিক অবস্থা ভেঙে পড়েছে। দেশেও যোগাযোগ করতে পারেননি, পরিবার কেমন আছে তাও জানেন না। ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন থাকায় পরিবারকে জানানোর উপায় ছিল না। হাতে টাকা-পয়সা তেমন ছিল না এবং বাসায় খাবার-দাবারও ফুরিয়ে গিয়েছিল। রুটি খেয়ে দিন পার করেছেন।
১১ বছর আগে মামুন জীবিকার তাগিদে ওমানে যান। সেখানে সুযোগ-সুবিধা না হওয়ায় অবৈধ পথে ইরানে পাড়ি জমান এবং টানা ১১ বছর বসবাস করেন।
তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন কাজে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে প্রথমে কারখানার মেশিনের আওয়াজ মনে করলেও পরে বাইরে বেরিয়ে আগুন আর মানুষের ছোটাছুটি দেখে যুদ্ধ বুঝতে পারেন। এ সময় অনেকেই আহত হন এবং তিনিও পায়ে মারাত্মক আঘাত পান।
২৪ ঘণ্টা একটি রুমে বন্দি অবস্থায় আতঙ্কে দিন কেটেছে। মিসাইলের বিকট শব্দ রুম থেকেই শুনেছেন। বের হওয়ার সুযোগ ছিল না। তিন-চার দিন না খেয়ে থাকতে হয়েছে। ক্ষুধা যন্ত্রণায় ছটফট করেছেন। মালিকও কারখানায় আসছিলেন না।
কিছুদিন পর বাংলাদেশি অ্যাম্বাসির মাধ্যমে দেশে ফেরার উদ্যোগের খবর শুনে কিছুটা স্বস্তি পান। দেশে ফেরার পর তিনি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন বলে মনে করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ইরানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় তিনি দেশে ফিরতে পেরেছেন।
#যুদ্ধ #ইরান #বাংলাদেশী #অভিজ্ঞতা #প্রত্যাবর্তন