ইরবিল বিমানবন্দরে বিস্ফোরণ ও ড্রোন হামলা: মার্কিন স্বার্থে নতুন উদ্বেগ

ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় কুর্দিস্তান অঞ্চলের ইরবিল বিমানবন্দরের কাছে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এই অঞ্চলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জিহাদ-বিরোধী জোটের উপদেষ্টারা অবস্থান করেন। গতকাল সোমবার এএফপির একজন সাংবাদিক এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে, ইরবিলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের দিকে ধেয়ে আসা চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে বলে একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ভোরে একটি বেসামরিক এলাকায় একটি প্রাণঘাতী ড্রোন হামলাও হয়েছে। সন্ত্রাস দমন পরিষেবা জানিয়েছে, মধ্যরাতের পর ইরবিল প্রদেশের দারা শাকরান উপজেলায় একটি বাড়িতে ইরান থেকে আসা বোমাবাহী ড্রোন বিধ্বস্ত হয় এবং এতে এক দম্পতি নিহত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, ইরাক-ভিত্তিক কিছু গোষ্ঠী, যারা ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ নামে পরিচিত এবং মূলত ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর একটি জোট, তারা দেশে এবং দেশের বাইরে মার্কিন স্বার্থের ওপর প্রায় প্রতিদিন হামলা চালানোর দায় স্বীকার করে আসছে। এই জোটটি ইরাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও প্রভাবের বিরোধিতা করে এবং মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
পেন্টাগন স্বীকার করেছে যে, যুদ্ধ চলাকালে ইরাকে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হেলিকপ্টার হামলা চালানো হয়েছে। গত রোববার, বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ‘ইরানের সাথে যুক্ত ইরাকি সন্ত্রাসী মিলিশিয়ারা মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনার ওপর মার্কিন কূটনীতিকদের হত্যার উদ্দেশ্যে দুটি ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে।’ দূতাবাসের মুখপাত্র ইরাকি কর্তৃপক্ষকে আরও হামলা রোধ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, ‘ইরাকি সরকার দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হলে আমরা আমাদের কর্মী ও স্থাপনা রক্ষায় দ্বিধা করব না।’
গত বৃহস্পতিবার ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘বিদেশি ও কূটনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখাসহ যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি রোধে তারা ‘সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’
কুর্দিস্তান অঞ্চলের পেশমার্গা নিরাপত্তা বাহিনীও যুদ্ধ শুরু থেকে একাধিক হামলার শিকার হয়েছে। গত মার্চে এক ইরানি হামলায় ছয়জন পেশমার্গা নিহত হয়। সোমবার পেশমার্গা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতরাতে বিস্ফোরক বোঝাই চারটি ড্রোন দিয়ে তাদের কমান্ড সদর দপ্তরে হামলা চালানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়টি বলেছে, ‘এখন পর্যন্ত ইরাকের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই সন্ত্রাসী হামলাগুলো প্রতিরোধ এবং বন্ধ করার জন্য কোনো কঠোর অবস্থান বা বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
#ইরাক #ইরবিল #ড্রোনহামলা #মার্কিনস্বার্থ #কুর্দিস্তান