ইসরাইলি বাহিনী গাজার উদ্দেশ্যে পাঠানো ত্রাণবাহী জাহাজ আটক করেছে

ইসরাইলি বাহিনী সাইপ্রাসের পশ্চিমের আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজার অভিমুখে যাত্রা করা অন্তত ১০টি ত্রাণবাহী জাহাজ আটক করেছে। এর ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং অনেক অ্যাক্টিভিস্ট আটক হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বহরটির আয়োজকদের পক্ষ থেকে আরও ২৩টি জাহাজের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
আন্দোলনকারী জোট গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা (জিএসএফ) জানিয়েছে, গাজা উপকূল থেকে প্রায় ২৫০ নটিক্যাল মাইল (৪৬০ কিলোমিটার) দূরে, ইসরাইলের আরোপিত সামুদ্রিক অবরোধের মধ্যে তাদের এই নৌবহর আটক করা হয়। সংগঠনটি এই ঘটনাকে “অবৈধ জলদস্যুতা” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
জিএসএফ কর্তৃক প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সশস্ত্র কমান্ডোরা কয়েকটি নৌকায় প্রবেশ করছে। তবে ইসরাইলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর পূর্বে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই নৌবহরটিকে “উস্কানি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পরিচালিত উস্কানি” বলে অভিহিত করেছিল এবং দাবি করেছিল যে এতে “দুটি সহিংস তুর্কি গোষ্ঠী” জড়িত রয়েছে।
গত মাসেও ক্রিট দ্বীপের কাছে একই নৌবহরের ২২টি জাহাজ ইসরাইলি বাহিনী আটক করেছিল। সে সময় জাহাজগুলোতে থাকা প্রায় ১৭৫ জন আন্দোলনকর্মীকে আটক করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক চাপ এবং সমালোচনার মুখে পরের দিন এদের অধিকাংশকে মুক্তি দেওয়া হলেও, স্পেনের নাগরিক সাইফ আবু কেশেক এবং ব্রাজিলের নাগরিক থিয়াগো আভিলাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইসরাইলে নিয়ে যাওয়া হয়। ১০ দিন হেফাজতে রাখার পর তাদের বহিষ্কার করা হয়।
পরবর্তীতে, নৌবহরের অবশিষ্ট জাহাজগুলো তুরস্কের মারমারিস বন্দরে ফিরে যায়। সেখান থেকে গত বৃহস্পতিবার প্রায় ৫০টি জাহাজ গাজার উদ্দেশ্যে পুনরায় যাত্রা শুরু করে।
নৌবহরে থাকা আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন যে, সাত মাস আগে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও গাজার ২১ লক্ষাধিক মানুষের বেশিরভাগই এখনও বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে এবং সেখানে মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। তাই তারা জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই অভিযান পরিচালনা করছেন।
অন্যদিকে, ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তারা গাজার উপর আরোপিত সামুদ্রিক অবরোধের কোনো লঙ্ঘন সহ্য করবে না। তাদের দাবি, এই অবরোধ আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং গাজায় পর্যাপ্ত সহায়তা পাঠানো হচ্ছে।
তবে জাতিসংঘ গত সপ্তাহে উল্লেখ করেছে যে, গাজায় মানবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ খুচরা যন্ত্রাংশ, ব্যাক-আপ জেনারেটর ও অন্যান্য সরঞ্জাম আমদানির উপর বিধিনিষেধ এবং জ্বালানি ও ইঞ্জিন তেলের অভাবকে দায়ী করা হয়েছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুসারে, গাজায় প্রবেশের জন্য ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে যে মানবিক সহায়তা অনুমোদন করেছিল, তার মাত্র ৮৬ শতাংশ শেষ পর্যন্ত সীমান্ত ক্রসিংয়ে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। বাকি সরবরাহ উৎসস্থলেই ফেরত পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এ পর্যন্ত ৭২ হাজার ৭৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
#গাজা #ইসরাইল #ত্রাণ #মানবিকসংকট #জলদস্যুতা