প্রযুক্তি
১৫ মে, ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়া সেই যুবক ৪ ঘণ্টা আগে প্রবেশ করেছিল, সিসিটিভি ফুটেজে চাঞ্চল্যকর তথ্য

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়া সেই যুবক ৪ ঘণ্টা আগে প্রবেশ করেছিল, সিসিটিভি ফুটেজে চাঞ্চল্যকর তথ্য

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ক্যাম্পাসের ভেতরে এক নারী শিক্ষার্থীকে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং তাকে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক ঘটনার চার ঘণ্টা আগে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছিল বলে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে জানা গেছে। গত শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গৃহীত পদক্ষেপ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে, প্রক্টর ঘটনাটিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেন এবং তীব্র প্রতিবাদ জানান। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে, গত ১৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি জরুরি প্রশাসনিক সভায় মোট ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

 

সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, অভিযুক্ত ওই যুবক গত ১২ মে সন্ধ্যা ৬টা ৫৮ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ মাইল এলাকার গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি রাত ৭টা ১৮ মিনিটে ক্যাম্পাসের প্রান্তিক গেট সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছান এবং সেখানে প্রায় ৭টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত অবস্থান করেন। পরবর্তীতে, ৭টা ৩১ মিনিটে তিনি ক্যাম্পাসের পদ্মপুকুর এলাকার একটি অন্ধকার স্থানের দিকে অগ্রসর হন। এই ঘটনার পর, তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে এসে অন্তত পাঁচবার ঘটনার স্থানের পাশ দিয়ে যাতায়াত করেন। এর মধ্যে রাত ১০টা ২০ মিনিটে তাকে ছাত্রী হল এলাকার রাস্তায়ও ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। এরপর তিনি পুনরায় ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করে ঘটনার স্থান অতিক্রম করে শহীদ সালাম বরকত হল এলাকায় যান। সেখান থেকে ফেরার পথে রাত ১১টা ১৩ মিনিটে, পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকা থেকে ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যান। এই ঘটনার মাত্র এগারো মিনিট আগে, অর্থাৎ রাত ১১টা ২ মিনিটে, তিনি একই স্থানে অন্য একজন নারী শিক্ষার্থীর পিছু নিয়েছিলেন বলেও ফুটেজে দেখা যায়। যদিও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার আগে অভিযুক্তের গতিবিধি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবগত হতে পেরেছে, কিন্তু ঘটনার পর তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ফুটেজ এখনো চিহ্নিত করা যায়নি।

 

ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৪ দফা বিশিষ্ট একটি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এই গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত জোরদার করার জন্য একটি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা, যেকোনো জরুরি অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি হটলাইন চালু করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয়পত্র বহন করা বাধ্যতামূলক করা, এবং বহিরাগতদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। উপরন্তু, বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিক, কর্মকর্তা এবং দোকান কর্মচারীদের জন্য পরিচয়পত্র প্রদর্শন করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে অবস্থিত ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলো অবিলম্বে অপসারণ করার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি তথ্যভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরি করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

 

নিরাপত্তা আরও জোরদার করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশপথে অতিরিক্ত নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েন করা হবে। নতুন নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগের পাশাপাশি, আরও ১০০ জন আনসার সদস্য মোতায়েনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আবেদন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রক্টর জানিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ক্যাম্পাসের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর সুব্যবস্থা করা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

#জাহাঙ্গীরনগরবিশ্ববিদ্যালয় #ধর্ষণচেষ্টা #সিসিটিভি #নারীনিরাপত্তা #ক্যাম্পাসনিরাপত্তা