জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত, লোডশেডিং বৃদ্ধির আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে, যা দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনকে ব্যাহত করছে। দ্বিগুণ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোডশেডিং বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরকার লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সন্ধ্যা ৬টার পর শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ এবং সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমানো।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গ্যাস সরবরাহ ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াটের নিচে চলে যেতে পারে।
পিডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল থাকলেও এপ্রিল-মে মাসে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট হতে পারে, যেখানে মোট উৎপাদন দাঁড়াবে মাত্র ১৬ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।
গতকাল সরকারি ছুটির দিনে সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। দিনের বেলা ৭০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হলেও রাতে তা ১০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
মার্চের শুরুতে ৫০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং থাকলেও ঈদের ছুটিতে চাহিদা কমায় তা কিছুটা কমেছিল। তবে বর্তমানে লোডশেডিং আবার বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এবং তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে থাকলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চাপ কম থাকবে। তবে বৃষ্টিপাত না হলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এপ্রিলে দেশে একাধিক তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এবং তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।
#জ্বালানিসংকট #বিদ্যুৎউৎপাদন #লোডশেডিং #মধ্যপ্রাচ্যযুদ্ধ #আবহাওয়া