International
২৪ মার্চ, ২০২৬
জ্বালানি সংকটের মধ্যে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে তেলের দাম যখন তুঙ্গে ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের পোর্ট আর্থারে ভ্যালেরো এনার্জি কর্পোরেশন পরিচালিত একটি অপরিশোধিত তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। যার পর আকাশে বিশাল কালো ধোয়ার স্তম্ভ দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে ঘটা ওই বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আশপাশের বাড়িঘর ও যানবাহন কেঁপে ওঠে। পশ্চিম পোর্ট আর্থারের বাসিন্দারা হঠাৎ করেই এই তীব্র বিস্ফোরণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে শোধনাগারটিতে জ্বলতে থাকা দীর্ঘ অগ্নিশিখা ও তার জড়ে কালো ধোয়ার কুন্ডলী উঠতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, বিস্ফোরণের সময় প্রচন্ড শব্দ হয়েছিল এবং তার ধাক্কায় অনেক বাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে গেছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ওই এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সতর্ক বার্তা জারি করে। অর্থাৎ সবাইকে ঘরের ভেতর অবস্থান করতে বলা হয়। বাতাসে ছড়িয়ে পড়া রাসায়নিকের কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। >> স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, পুরো এলাকায় পচা ডিমের মত তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। যা সাধারণত সালফার জাতীয় রাসায়নিকের উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। অন্যরাও জানান বিস্ফোরণের ধাক্কায় তাদের বাড়ি ও গাড়ি কেঁপে ওঠে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রিফাইনারির একটি হিটিং ইউনিটে ত্রুটির কারণেই এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
এদিকে কর্তৃপক্ষ সারাদিন এলাকার বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ করেছে। কারণ ধোয়ার চাদরে পুরো আকাশ ঢেকে যায়। এখন পর্যন্ত কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং রিফাইনারিতে কর্মরত সব শ্রমিক নিরাপদে আছেন বলে নিশ্চিত করেছে ভ্যালেরো এনার্জি কর্পোরেশন। পোর্ট আর্থার শহরটি টেক্সাসের রাজধানী হিউস্টিন থেকে 90 মাইল পূর্বে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের মধ্যে এই বিস্ফোরণের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেননা রিফাইনারিটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর একটি। যেখানে প্রতিদিন প্রায় 4 লাখ 35,000 ব্যারেল, গ্যাসোলিন, ডিজেল ও জেট ফুয়েল উৎপাদন করা হয়।
ভ্যালেরোর ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে বিস্ফোরণের শিকার শোধনাগারটিতে 800 জন কর্মী ছিলেন। স্থানীয়দের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি বিস্ফোরণের মাত্রা বিবেচনায় পুরো এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়া উচিত ছিল। কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যমে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে ক্ষতিকর রাসায়নিক বাতাসে ছড়িয়ে আরো দূর পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে। এই ঘটনা আবারো শিল্প স্থাপনায় নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
#যুক্তরাষ্ট্র #ইরান #updatenews #breakingnews #newsupdate #trending #latestnews #videosnews #banglanews #latestbanglanews