কালবৈশাখী ঝড়ে গাছচাপায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের, বাড়িতে ফেরা হলো না

পবিত্র ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে নিজ গ্রামের বাড়ির পানে ফিরছিলেন মো. হোসেন আহম্মদ (৬০)। তবে বিধিবাম, প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে ফেরা তার আর হলো না। পথিমধ্যে এক আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের ঝাউডগী গ্রামে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্র মারফত জানা গেছে, পেশাগত কারণে হোসেন আহম্মদ দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকায় বসবাস করছিলেন। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে আপনজনদের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাকে গ্রামের বাড়ির দিকে চালিত করে। তিনি প্রথমে লঞ্চযোগে ঢাকা থেকে চাঁদপুরে পৌঁছান। পরবর্তীতে সেখান থেকে তিনি বাড়ির উদ্দেশ্যে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাত্রা শুরু করেন।
তার দুর্ভাগ্য, চাঁদপুর অঞ্চলের চান্দ্রা চৌরাস্তা এলাকার কাছে আসতেই হঠাৎ করে এক ভয়ংকর কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। এই ঝড়ের সময়েই রাস্তার পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিশাল গাছ আকস্মিকভাবে ভেঙে চলন্ত সিএনজি অটোরিকশার ওপর আছড়ে পড়ে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় হোসেন আহম্মদ মারাত্মকভাবে আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে আসেন, কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তার নিকটাত্মীয়রা জানান, হোসেন আহম্মদ অত্যন্ত কষ্ট করে তার সংসার পরিচালনা করতেন। এবারের ঈদে পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটানোর প্রত্যাশায় তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার নিথর দেহটিই এখন বাড়ির পথে রওনা হয়েছে।
হোসেনের এই আকস্মিক মৃত্যুতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় শোকের মাতম চলছে। এলাকার প্রতিবেশীরা তাকে একজন শান্ত, পরিশ্রমী এবং ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার এই মর্মান্তিক পরিণতিকে কেউই সহজে মেনে নিতে পারছেন না।
স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে একটি জোরালো দাবি উত্থাপিত হয়েছে যে, ঝড়ের সময়ে রাস্তার পার্শ্ববর্তী ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো যদি দ্রুততার সঙ্গে অপসারণ করা হতো এবং দুর্যোগকালীন সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হতো, তবে এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অনেকাংশেই এড়ানো সম্ভব হতো।