Chattogram
২৭ মে, ২০২৬

কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড সন্দ্বীপের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, জনজীবনে চরম ভোগান্তি

কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড সন্দ্বীপের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, জনজীবনে চরম ভোগান্তি

চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে আকস্মিকভাবে আছড়ে পড়া কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাবে বিদ্যুতের খুঁটি ও লাইনের উপর গাছপালা ভেঙে পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে পুরো উপজেলা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে বেশ দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এই বিদ্যুৎ সংকটময় সময়ে সন্দ্বীপের বাসিন্দাদের ধৈর্য ধারণ করার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ আন্তরিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।

বুধবার সকাল প্রায় ১০টার দিকে হঠাৎ করেই তীব্র বেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো সন্দ্বীপ জুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে উপজেলাটি বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, এই কালবৈশাখী ঝড়ের প্রভাব শুধু সন্দ্বীপেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং মূল ভূখণ্ড চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও বাড়বকুন্ড এলাকার বিভিন্ন অংশেও গাছপালা উপড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর ফলেই সন্দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রধান ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে সন্দ্বীপের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দেখা গেছে, রহমতপুর, হারামিয়া, হরিশপুর এবং দীর্ঘাপাড়াসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যুতের প্রধান লাইনের উপর বিশাল আকৃতির গাছের ডালপালা ভেঙে পড়েছে। কিছু কিছু স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়েছে এবং তার ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করার জন্য কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করলেও, ক্ষয়ক্ষতির বিশালত্বের কারণে তাদের কাজ ধীর গতিতে এগোচ্ছে।

সন্দ্বীপ উপজেলা বিদ্যুৎ প্রকৌশলী (নির্বাহী) তানভীর হায়দার আমার দেশকে জানান, "ঝড়টির স্থায়িত্ব বা বিস্তৃতি তুলনামূলকভাবে কম হলেও, এর ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা অত্যন্ত গুরুতর। বিদ্যুতের মূল সঞ্চালন লাইনের একাধিক স্থানে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। আমরা যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। তবে, সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে বেশ উল্লেখযোগ্য সময় প্রয়োজন হতে পারে।" এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে তিনি সন্দ্বীপের সকল স্তরের মানুষকে ধৈর্য ধারণ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন।

এদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সন্দ্বীপের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। একইসাথে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে, কাঁচাবাজার, মাছ-মাংসের দোকান এবং রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা তাদের ফ্রিজিং করা পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন উপজেলার পোল্ট্রি ফার্মের মালিকেরা। তীব্র ভ্যাপসা গরম এবং বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের ভিতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত বাতাস ও পানির অভাবে ইতিমধ্যেই বহু খামারে পোল্ট্রি মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে পোল্ট্রি শিল্পে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি খামারিদের একটি বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। #সন্দ্বীপ #কালবৈশাখী #বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতা #দুর্যোগ