National
৯ জুন, ২০২৬

খাদ্য অপচয় রোধে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ: প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য নষ্ট হওয়ার তথ্য সংসদে প্রকাশ

খাদ্য অপচয় রোধে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ: প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য নষ্ট হওয়ার তথ্য সংসদে প্রকাশ

জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ইউনেপের ‘ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স ২০২৪’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হয়। জাতীয় সংসদে খাদ্যমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এই তথ্য উপস্থাপন করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে এই পরিমাণটি দেশের সামগ্রিক খাদ্য অপচয়ের চিত্র তুলে ধরে। তবে, মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে সরকারি ব্যবস্থাপনার গুদাম এবং সাইলোতে খাদ্যশস্যের অপচয় বা ঘাটতি পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা হয়েছে।


সোমবার জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এই তথ্য জানানো হয়। ওই দিন বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে, কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম একটি লিখিত প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, ‘ইউনেপের ২০২৪ সালের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে যে বাংলাদেশে উৎপাদিত খাদ্যের একটি বড় অংশ, প্রায় ৩৫ লাখ টন, আবর্জনার স্তূপে চলে যায়। এই খাদ্য অপচয় রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মন্ত্রণালয় কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে?’


খাদ্যমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী তার লিখিত জবাবে নিশ্চিত করেছেন যে ইউনেপের প্রতিবেদনে উল্লিখিত ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় একটি সামগ্রিক হিসাব। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে গুদাম ও সাইলোতে সংরক্ষণ করা হয়। এই খাদ্যশস্য বিভিন্ন খাতে বিতরণের সময় সরকারি ব্যবস্থাপনায় কিছু পরিমাণ নষ্ট হয়ে থাকে।


মন্ত্রী আরও জানান যে, নতুন আধুনিক সাইলো এবং খাদ্য গুদাম নির্মাণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সুষ্ঠুভাবে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ এবং পরিবহনের জন্য এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে খাদ্যশস্যের অপচয় পর্যায়ক্রমে কমানো হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।


সরকারি ব্যবস্থাপনায় খাদ্যশস্যের ঘাটতি বা অপচয় হ্রাসের বিষয়ে মন্ত্রী কিছু পরিসংখ্যানও সংসদে তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে মোট ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৩২৯.৮৮ মেট্রিক টন, যা শতকরা হিসেবে ০.৩১৬ শতাংশ। অন্যদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের মোট ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৮৮৭.৩৪৭ মেট্রিক টনে, যা শতকরা হিসেবে ০.২৮ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে আগের অর্থবছরের তুলনায় ঘাটতি হ্রাস পেয়েছে।


খাদ্যমন্ত্রী আরও অবহিত করেন যে, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ দেশে খাদ্য নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং খাদ্যের অপচয় রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের অপচয় ও ক্ষতি রোধে এই সংস্থাটি নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও তিনি সংসদে উল্লেখ করেন।


#খাদ্যঅপচয় #বাংলাদেশ #ইউনেপ #খাদ্যমন্ত্রী #জাতীয়সংসদ #নিরাপদখাদ্য