খেলাফত মজলিসের আমির: শ্রমিকের অধিকার ও ইসলামী শ্রমনীতির গুরুত্ব

খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ বলেছেন, দেশের শ্রমজীবী মানুষ আজও তাদের পূর্ণাঙ্গ অধিকার থেকে বঞ্চিত। অথচ মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বোঝাপড়া যে কোনো প্রতিষ্ঠানকে অর্থনৈতিকভাবে সফল করতে পারে। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে শ্রমিক মজলিসের ‘ন্যাশনাল লেবার রিপ্রেজেন্টেটিভ কনভেনশন ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ইসলামী শ্রমনীতিতে শ্রমিকের সব অধিকারের নিশ্চয়তা রয়েছে। শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধে মালিকপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে ইসলাম। শ্রমিকের সাধ্যের অতিরিক্ত কাজের বোঝা না দেয়া, মানবিক ও সম্মানজনক আচরণ করা, বিশ্রাম ও ইবাদত করার সুযোগ এবং কাজের সুনির্দিষ্ট চুক্তির বিধান রয়েছে ইসলামে। ইসলামী অনুশাসন মেনে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলেই দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ বলেন, প্রত্যেক শ্রমিকের ন্যায্য ও যৌক্তিক মজুরি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তাদের জন্য কাজের একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা মালিকপক্ষ বা নিয়োগ কর্তার অন্যতম দায়িত্ব। শ্রমিকের নিয়মিত বিশ্রাম, সাপ্তাহিক ছুটি ও কর্মঘণ্টার অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক ওভারটাইম হিসেবে পরিশোধ করা মালিকপক্ষের দায়িত্ব। অন্যদিকে শ্রমিকের নৈতিক দায়িত্ব হলো-চুক্তি অনুযায়ী নিষ্ঠার সঙ্গে তার কর্ম সম্পাদন করা। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার শিকার হলে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা প্রাপ্তি, স্বাস্থ্য ও মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রাপ্তির অধিকার রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা যতদিন প্রতিষ্ঠিত না হবে ততদিন আমাদের সংগ্রাম চলবে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাতে চাই, শিশুদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বা বাধ্যতামূলক শ্রমের কাজ বন্ধ করতে হবে। আসন্ন কোরবানি ঈদের আগেই শ্রমিকদের সব বেতন-ভাতা আদায় করতে হবে। ঈদে সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে হবে।
শ্রমিক মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রভাষক মুহাম্মদ আবদুল করিমের সভাপতিত্বে কনভেনশনে অতিথি ছিলেন খেলাফত মজলিস মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মাওলানা নোমান মাজহারী, যুগ্ম-মহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক আবদুল জলিল, কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুর রহমান ফিরোজ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মুফতি আবুল হাসান এমপি, সাবেক শ্রম সংস্কার কমিশন প্রধান ও বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমদ।
অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান খান ও আবুল কালাম আজাদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এএএম ফয়েজ হোসেন, শ্রমিক আন্দোলনের সহ-সভাপতি হারুন-অর রশিদ, শ্রমিক অধ
#শ্রমিকঅধিকার #ইসলামীশ্রমনীতি #খেলাফতুমজলিস