কোরবানির ঈদ করতে এসে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন জন সহ ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু: শোকস্তব্ধ মুনিরাবাদ গ্রাম

পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম মুনিরাবাদ। এই গ্রামের কোকরাকাঠী জামে মসজিদ ও মাদরাসার সামনে পাশাপাশি রাখা তিনটি খাটিয়ায় শুয়ে ছিল একই পরিবারের তিনজন সদস্যের নিথর দেহ। এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য গ্রামের মানুষ এর আগে কখনো দেখেনি। তারা তিনজনই কোরবানির জন্য গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন ঢাকা থেকে বাসে করে। কিন্তু কোরবানির দিনেই গোপালগঞ্জের সড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের প্রাণহানি ঘটে, যেখানে মোট পাঁচ জন নিহত হন।
একই পরিবারের তিন সদস্যের এই ভয়াবহ মৃত্যুতে মুনিরাবাদ গ্রাম শোকের চাদরে ঢেকে গেছে। নিহতরা হলেন সোহাগ (৩৭), তার স্ত্রী খাদিজা খাতুন (৩৪) এবং তাদের আট বছর বয়সী ছেলে আরমান। শুক্রবার সকাল ১০টায় তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীতে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসনাত ডালিম জানিয়েছেন, 'দোলা পরিবহন' নামক একটি দূরপাল্লার বাসের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মুনিরাবাদ গ্রামের এই তিনজনসহ আরও দুজন নিহত হন।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে গতকাল বৃহস্পতিবার, কোরবানির দিন দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গোপালগঞ্জে গিয়ে তিনি নিহতদের পরিবারের অন্য কোনো সদস্য উপস্থিত না থাকায় বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে তিনটি লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন।
চেয়ারম্যান ডালিম আরও জানান, নিহত সোহাগ নারায়ণগঞ্জ জেলার আলীগঞ্জে একটি স’মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং কোরবানির ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। তার দুই ছেলের মধ্যে অন্যজন নানাবাড়ি থাকে। সোহাগ একজন অত্যন্ত সহজ-সরল মানুষ ছিলেন। তার পরিবারের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো গ্রামজুড়ে গভীর শোক বিরাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই গ্রামের মানুষ এমন ভয়াবহ দৃশ্য আগে কখনো দেখেনি।
প্রসঙ্গত, এই দুর্ঘটনায় নিহত অন্য দুজন ব্যক্তি বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার বাসিন্দা বলে গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে। #পিরোজপুর #সড়কদুর্ঘটনা #গোপালগঞ্জ #কোরবানি #দুর্ঘটনা