প্রযুক্তি
২৯ মে, ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য নতুন সুযোগ ও বাস্তবতা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য নতুন সুযোগ ও বাস্তবতা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এখন কেবল বৈজ্ঞানিক আলোচনার বিষয়বস্তু নয়; এটি সরাসরি লক্ষ লক্ষ মানুষের পেশাগত জীবনে এক গভীর প্রভাব ফেলছে। লেখালেখি, কোডিং, গ্রাফিক ডিজাইন থেকে শুরু করে ডেটা বিশ্লেষণ পর্যন্ত — প্রতিটি ক্ষেত্রেই এআই-এর ক্ষমতা অনস্বীকার্যভাবে অনুভূত হচ্ছে। বাংলাদেশেও এই পরিবর্তন স্পষ্ট এবং দেশের প্রায় ৬ লক্ষ ৫০ হাজার ফ্রিল্যান্সারের সামনে এটি অভূতপূর্ব সুযোগের পাশাপাশি কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জও নিয়ে এসেছে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: এআই এবং কর্মজগতের রূপান্তর

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) 'ফিউচার অব জবস রিপোর্ট ২০২৫' অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ এআই এবং তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্বের ৮৬ শতাংশ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে আমূল বদলে দেবে। এই রূপান্তরের ফলে প্রায় ৯ কোটি ২০ লক্ষ কর্মসংস্থান বিলুপ্ত হলেও, এর বিপরীতে ১৭ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। অর্থাৎ, বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থানে নিট লাভ হবে প্রায় ৭ কোটি ৮০ লক্ষ। এই প্রতিবেদনটি ২২টি শিল্পখাত এবং ৫৫টি অর্থনীতির ১ হাজারেরও বেশি কোম্পানির জরিপের উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের একটি গবেষণা অনুসারে, জেনারেটিভ এআই বিশ্বজুড়ে ৩০ কোটি পূর্ণকালীন কর্মীর সমতুল্য কাজ স্বয়ংক্রিয় করতে পারে এবং বিশ্বের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৭ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি আনতে সক্ষম। ম্যাককিনজি গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এআই এবং অটোমেশন প্রায় ৭ কোটি ৫০ লক্ষ থেকে ৩৭ কোটি ৫০ লক্ষ কর্মীকে প্রভাবিত করতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী কর্মীবাহিনীর প্রায় ১৪ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।

WEF আরও উল্লেখ করেছে যে ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যমান ৩৯ শতাংশ কর্মদক্ষতা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে। তবে, এই হার ২০২৩ সালের ৪৪ শতাংশ এবং ২০২০ সালের ৫৭ শতাংশের তুলনায় কম, যা ইঙ্গিত দেয় যে কর্মীরা আগের চেয়ে দ্রুততার সাথে নিজেদের দক্ষতা উন্নত করছেন। বর্তমানে ৮৫ শতাংশ নিয়োগকর্তা কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি: ফ্রিল্যান্সিং খাতে এআই-এর প্রভাব

বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ফ্রিল্যান্সিং অর্থনীতির দেশ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের তথ্যমতে, দেশে প্রায় ৬ লক্ষ ৫০ হাজার নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৫ লক্ষ সক্রিয়ভাবে পেশাগত কাজ করছেন। ২০২৩ সালে, ফ্রিল্যান্সিং এবং আইটি রপ্তানি থেকে অর্জিত আয় ছিল প্রায় ১৮৫ কোটি ডলার, যা ২০২৫ সালে ২৬০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনটাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (BACCO)-এর তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২০২৫ সালের প্রথমার্ধেই আউটসোর্সিং আয় ৯০ কোটি ডলার অতিক্রম করেছে, যা ২০২৪ সালের সম্পূর্ণ বছরের মোট আয় (৮৫ কোটি ডলার)-কে ছাড়িয়ে গেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের শুরু নাগাদ দেশে ১০ লক্ষেরও বেশি সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার থাকবেন। এআই টুলগুলির ব্যাপক ব্যবহার এই বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। চ্যাটজিপিটি, গিটহাব কোপাইলট, মিডজার্নি, ক্লড-এর মতো সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করে কর্মীরা আগের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ দ্রুত গতিতে কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন। অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে এআই-সম্পর্কিত দক্ষতার চাহিদা গত এক বছরে প্রায় ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

#কৃত্রিমবুদ্ধিমত্তা #এআই #ফ্রিল্যান্সিং #বাংলাদেশ #প্রযুক্তি