কুলাউড়ার থামেশ্বর নদী দখল ও পানিশূন্যতা: কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় খননের দাবি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ও টিলাগাঁও ইউনিয়নের সীমানা দিয়ে প্রবাহিত এক সময়ের খরস্রোতা থামেশ্বর নদী এখন দখল ও পানিশূন্যতার শিকার। একদা মনু নদী থেকে উৎপন্ন এই নদীটি স্থানীয় কৃষকদের জন্য কৃষি কাজের প্রধান উৎস ছিল। এটি দেশীয় মাছের অভয়াশ্রম এবং গবাদি পশুর খাদ্যের যোগান দিত। হাকালুকি হাওরের সাথে সংযোগ থাকায় প্রচুর মিঠাপানির মাছ পাওয়া যেত, যা অনেক জেলের জীবিকার উৎস ছিল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর দুই পাড়ের ভূমির মালিকরা নদীটি সম্পূর্ণ দখল করে নিয়েছেন। এর ফলে ইটাহরি বন ও ছাগলিকোনা হাওরের কৃষকরা তীব্র পানিশূন্যতায় ভুগছেন। আউশ, আমন ও বোরো ধান চাষে ব্যবহৃত এই নদীর পানি অভাবে ছাগলিকোনা হাওরের বিশাল আবাদি জমিতে বোরো মৌসুমে ধান চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না। নদী খনন করা হলে হাজার হাজার একর জমি আবাদের আওতায় আসবে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদরা নদীটি দ্রুত খননের দাবি জানিয়েছেন:
- পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য এম এ হামিদ জানান, তার সময়ে খননের পরিকল্পনা থাকলেও তৎকালীন সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
- লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক হেলাল খান ও মাজহারুল ইসলাম কৃষির উন্নয়নে পানির গুরুত্ব তুলে ধরে দ্রুত নদী উদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন।
- স্থানীয়রা নদী খনন ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সমৃদ্ধ করার কথা বলেছেন।
এ বিষয়ে পৃথিমপাশা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন নদী খননকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে উপজেলা কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি উপস্থাপনের এবং সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে নদী চিহ্নিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। কুলাউড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার আনিসুল ইসলাম তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।