National
৩০ মে, ২০২৬

কুয়াকাটা সৈকতে কংক্রিটের ফাঁদ: পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

কুয়াকাটা সৈকতে কংক্রিটের ফাঁদ: পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

পটুয়াখালীর সাগরকন্যা খ্যাত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের জিরো পয়েন্ট এবং এর আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে থাকা কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষ পর্যটকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জোয়ারের পানিতে ডুবে থাকা এই কংক্রিটের অংশগুলো প্রায়শই দুর্ঘটনার জন্ম দিচ্ছে, যা আগত পর্যটকদের ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই কংক্রিটের ফাঁদে পড়ে নানা দুর্ঘটনা ঘটলেও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এমনকি বিপজ্জনক এলাকা চিহ্নিত করে কোনো সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়নি। ট্যুরিস্ট পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও তাদের পক্ষ থেকেও দৃশ্যমান কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দেখা যায়নি।

২০০৭ সালের বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ এবং ২০০৯ সালের ‘আইলা’র প্রভাবে সৈকতের কাছে অবস্থিত এলজিইডির একটি বাংলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে ভবনটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে, তবে এর দেয়াল, পিলার এবং অন্যান্য কংক্রিটের অংশ বালির নিচে চাপা পড়ে রয়ে গেছে। এছাড়াও, সমুদ্রে বিলীন হয়ে যাওয়া পাবলিক টয়লেট, জাতীয় উদ্যানের প্রবেশদ্বার, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, চেয়ার-বেঞ্চ এবং সীমানা দেয়ালসহ বিভিন্ন কাঠামোর ধ্বংসাবশেষ এখনও সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক, বিশেষ করে জিরো পয়েন্ট এবং এর আশেপাশে, সমুদ্রে স্নান করতে নামেন। জোয়ারের সময় ঢেউয়ের সাথে আনন্দ করার সময় অনেকেই পানির নিচে লুকিয়ে থাকা কংক্রিটের ভাঙা অংশ এবং মরিচা পড়া রড সম্পর্কে অবগত থাকেন না। এর ফলে তাদের আনন্দময় মুহূর্তগুলো প্রায়শই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় রূপ নিচ্ছে।

প্রায় দেড় বছর পূর্বে, সৈকতের এলাকায় একটি কংক্রিটের টুকরার আঘাতে চেতনা হারিয়ে স্রোতে ভেসে গিয়ে মারা যান মাগুরার হাজিপুর পশ্চিম বাড়িয়াল এলাকার বাসিন্দা ১৭ বছর বয়সী মিয়া সামাদ সিদ্দিকী ওরফে পারভেজ।

কুয়াকাটা ভ্রমণে আসা দর্শনার্থী মাহতাব হাওলাদার এই প্রসঙ্গে বলেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। পর্যটকদের নিরাপত্তা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহেল মাহমুদ জানান, প্রতিদিনই পর্যটকরা শ্যাওলা ধরা জিওটিউবে পা পিছলে আহত হচ্ছেন। এছাড়াও, গোসল করার সময় কংক্রিটের ভাঙা অংশে অনেকের পা কেটে যাচ্ছে এবং নখ উপড়ে যাচ্ছে। জোয়ারের সময় এই বিপদ আরও অনেক বেড়ে যায়। তাই এই সমস্যার সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক আশ্বস্ত করেছেন যে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। #কুয়াকাটা #পর্যটন #নিরাপত্তা #বাংলাদেশ