প্রযুক্তি
৩০ মে, ২০২৬

মাখন, ঘি বনাম সয়াবিন, সরিষার তেল: পুষ্টিবিদেরা কী বলছেন?

মাখন, ঘি বনাম সয়াবিন, সরিষার তেল: পুষ্টিবিদেরা কী বলছেন?

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু চিকিৎসক সয়াবিন ও সরিষার তেলের মতো উদ্ভিজ্জ তেলের পরিবর্তে মাখন বা ঘি গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে, এই প্রাণিজ চর্বি স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী। তবে পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা ভিন্নমত পোষণ করেন। তাদের মতে, প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ চর্বির মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উদ্ভিজ্জ ফ্যাট অধিকতর উপকারী।

 

লাল মাংসের ব্যবহার নিয়েও সমাজে ভিন্ন ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকে এটিকে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মনে করলেও, পুষ্টিবিজ্ঞানীরা মনে করেন এর প্রভাব নির্ভর করে গ্রহণের পরিমাণ এবং চর্বির মাত্রার ওপর।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. সায়েদুল আরেফিন ব্যাখ্যা করেন যে, যদিও উদ্ভিজ্জ ফ্যাট প্রাণিজ ফ্যাটের তুলনায় বেশি স্বাস্থ্যকর, পরিমিত পরিমাণে প্রাণিজ ফ্যাটও শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়।

 

তিনি আরও জানান, ফ্যাট শরীরের একটি অপরিহার্য উপাদান। এটি কেবল শক্তির যোগানই দেয় না, বরং ভিটামিন এ, ডি, এবং ই-এর মতো ভিটামিন শোষণেও সহায়তা করে। এছাড়াও, এটি হরমোন উৎপাদন এবং কোষ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

পুষ্টিবিদদের তথ্য অনুযায়ী, ফ্যাট প্রধানত দুই প্রকার: স্যাচুরেটেড (সম্পৃক্ত) এবং আনস্যাচুরেটেড (অসম্পৃক্ত)। প্রাণিজ উৎস থেকে প্রাপ্ত ফ্যাটে সাধারণত স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে, যা অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এর বিপরীতে, উদ্ভিজ্জ তেল এবং মাছ থেকে প্রাপ্ত আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয়।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, অলিভ অয়েল এবং সূর্যমুখী তেলের মতো উদ্ভিজ্জ তেলে এমন সব উপাদান থাকে যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। বিশেষ করে, মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

 

পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দেন যে, মাখন, ঘি, পনির এবং লাল মাংসের মতো খাবারগুলোতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকার কারণে এগুলো পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

 

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (NHS) তথ্য অনুসারে, অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড বা ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। একজন পুরুষের জন্য দৈনিক ৩০ গ্রামের বেশি এবং একজন নারীর জন্য ২০ গ্রামের বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

গবেষণায় দেখা গেছে যে, উদ্ভিজ্জ ফ্যাট বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি হ্রাস পায়, যেখানে প্রাণিজ ফ্যাট বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে এই ঝুঁকি বাড়তে পারে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণাতেও একই ধরনের ফলাফল পরিলক্ষিত হয়েছে।

 

সূত্র: বিবিসি #উদ্ভিজ্জফ্যাট #প্রাণিজফ্যাট #হৃদরোগ #স্বাস্থ্যকরখাবার #পুষ্টি