National
৬ মে, ২০২৬

মহানন্দা নদীর পাড়ে ৬ গ্রামে তীব্র পানির সংকট, ভরসা একটি টিউবওয়েল

মহানন্দা নদীর পাড়ে ৬ গ্রামে তীব্র পানির সংকট, ভরসা একটি টিউবওয়েল

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও সদর উপজেলার মহানন্দা নদীর তীরবর্তী ৬টি গ্রামের প্রায় ৩ হাজার মানুষ তীব্র পানির সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য পানীয় জল ও গৃহস্থালি কাজের প্রয়োজনে ভরসা কেবল একটি মাত্র সরকারি টিউবওয়েল। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এলাকাবাসী এই টিউবওয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করার জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করে। তবে, নিরাপত্তার কারণে সন্ধ্যা নামার পর পরই বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় কাউকে প্রবেশ করতে দেয় না, যা পানির সংকটকে আরও ঘনীভূত করে তুলেছে।

সিদ্দিক নগর গ্রামের বাসিন্দা মো. রবিউল ইসলাম জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে এই ৬ গ্রামের প্রায় ৩ হাজার বাসিন্দা চরম পানি সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সরকারি পর্যায়ে এ বিষয়ে অনেক আলোচনা ও আবেদন নিবেদন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশ্বাসও দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।

স্থানীয়ভাবে সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমশ নিচে নেমে যাওয়ার কারণে সিদ্দিকনগর, মোমিনপাড়া, সাহেবজোত, ঈদগাবস্তী এবং পুরাতন বাজারসহ অন্তত ছয়টি গ্রামের অধিকাংশ টিউবওয়েল অকার্যকর হয়ে পড়েছে। একই ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে সদর উপজেলার নদী বেষ্টিত রাজা পাড়ের ডাঙা এবং মীরগড় এলাকাতেও। এই পরিস্থিতিতে, বাসিন্দারা সীমান্তের শূন্য রেখায় মহানন্দা নদীর পাশে অবস্থিত একমাত্র সরকারি টিউবওয়েলের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

তেঁতুলিয়ার একজন প্রবীণ সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, এই সীমান্ত অঞ্চল অসংখ্য নদ-নদী দ্বারা বেষ্টিত, যার প্রায় সবগুলোর উৎসমুখ ভারতে অবস্থিত। তারা নিজেদের স্বার্থে একতরফাভাবে বাঁধ নির্মাণ করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। এর ফলে বাংলাদেশের অংশে থাকা নদীগুলো বর্তমানে প্রায় মরা খালে পরিণত হয়েছে এবং পানির স্বাভাবিক স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে পানির জন্য হাহাকার উঠেছে। তিনি জনগুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি সমাধানে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান এই সংকটের পেছনে বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, নদীর পানি কমে যাওয়া, সমতল ভূমি কেটে পাথর উত্তোলন করা এবং কৃষি জমিতে ভারী সেচ পাম্প ব্যবহার করার ফলে পানির স্বাভাবিক স্তর নিচে নেমে যাওয়াই এই দুর্ভোগের মূল কারণ। এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কমিউনিটি ভিত্তিক সাবমার্সিবল পাম্প অথবা তারা পাম্প স্থাপনের জন্য একটি প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু এই পানি সংকটের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই সমস্যা নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় সাবমার্সেল পাম্প এবং অন্যান্য সরঞ্জামের চাহিদা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।

#পানিরসংকট #তেঁতুলিয়া #মহানন্দানদী #পঞ্চগড়