মির্জাগঞ্জে কালবৈশাখীতে ৩৯ হাজার গ্রাহক ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন: জনভোগান্তি চরমে

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট দুর্যোগের কারণে প্রায় সাত ঘণ্টার অধিক সময় ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন প্রায় ৩৯ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক। বুধবার সকাল ৯টা থেকে শুরু করে দুপুর ৩টা পর্যন্ত এই বিশাল সংখ্যক গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনে চরম দুর্ভোগ বয়ে এনেছে।
মির্জাগঞ্জ সাব-জোনাল বিদ্যুৎ অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, পুরো উপজেলা জুড়ে মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা ৩৯ হাজার। বুধবার সকালে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবের পাশাপাশি ৩৩ কেভি লাইনের ত্রুটির কারণে সাব-স্টেশনের সকল বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়েছিল। দুপুর ৩টার পর কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল ৯টার দিকে ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়নি। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়টি স্থানীয় বিদ্যুৎ অভিযোগ কেন্দ্রে জানানো হলেও, বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো দল এখনো পর্যন্ত এলাকায় পৌঁছায়নি বলে তারা জানান।
এ প্রসঙ্গে মাধবখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রাজ্জাক মৃধা 'আমার দেশ' কে বলেন, 'মুন্সিরহাট বাজার এলাকা সহ কিসমত ঝাটিবুনিয়া, বাজিতা চতুর্থ খণ্ড এবং মাধবখালী গ্রামের অসংখ্য গ্রাহক বিদ্যুৎ পাননি। ঝড় পরবর্তী সময়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কর্মীকে আমরা এলাকায় দেখিনি। এখনও পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়নি।'
মির্জাগঞ্জ সাব-জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) পলক সাহা এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, 'কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। অধিকন্তু, ৩৩ কেভি লাইনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় দুপুর ৩টা পর্যন্ত সাব-স্টেশনের সমস্ত লাইন বন্ধ রাখা হয়েছিল। বর্তমানে লাইন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলছে।'
#মির্জাগঞ্জ #কালবৈশাখী #বিদ্যুৎবিভ্রাট #পটুয়াখালী #জনভোগান্তি