বিনোদন
১৪ মে, ২০২৬

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মতে, বাংলাদেশে ‘সিলেকটিভ ইনক্লুশন’ এবং একপেশে ইতিহাসচর্চা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মতে, বাংলাদেশে ‘সিলেকটিভ ইনক্লুশন’ এবং একপেশে ইতিহাসচর্চা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ‘সিলেকটিভ ইনক্লুশন’ এবং একপেশে ইতিহাসচর্চার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বয়ানের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যার ফলে বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঘটনা শিল্প-সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে উপেক্ষিত থেকে গেছে।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে ফারুকী প্রশ্ন তুলেছেন যে, মুক্তিযুদ্ধের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে জেনারেল ওসমানীর অনুপস্থিতি, ভাসানীর রাজনৈতিক ভূমিকা, রক্ষীবাহিনীর নির্যাতন অথবা মেজর জলিলকে নিয়ে কেন উল্লেখযোগ্য কোনো সিনেমা বা উপন্যাস নির্মিত হয়নি। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, একইভাবে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের অবদান, জমিদারি শোষণ কিংবা বাহাত্তর-পরবর্তী সময়ের নৈরাজ্যও দেশের মূলধারার শিল্প-সংস্কৃতিতে পর্যাপ্তভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

ফারুকী আরও উল্লেখ করেন যে, গুম, রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিপীড়নের মতো ঘটনাগুলো নিয়েও দেশে শক্তিশালী কোনো ফিকশন নির্মিত হয়নি। উদাহরণস্বরূপ তিনি ইলিয়াস আলী, সুমন, আরমান কিংবা আবরার ফাহাদের প্রসঙ্গ টেনে আনেন এবং বলেন যে, লাতিন আমেরিকার চলচ্চিত্রকাররা যেভাবে নিজেদের ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়গুলো সিনেমায় তুলে ধরেন, বাংলাদেশে সেই ধরনের প্রবণতা দেখা যায় না।

তার মতে, এর পেছনে দুটি প্রধান কারণ বিদ্যমান। প্রথমত, সমাজে এমন এক সাংস্কৃতিক বয়ান তৈরি হয়েছে যেখানে কিছু বিষয়কে ‘প্রগতিশীল’ বা ‘সাংস্কৃতিকভাবে গ্রহণযোগ্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। দ্বিতীয়ত, এই ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে গেলে শিল্পীদের ‘রাজাকার’সহ বিভিন্ন তকমার সম্মুখীন হতে হয় এবং প্রযোজনা বা অর্থায়নের ক্ষেত্রেও বাধার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ফারুকী আরও দাবি করেন যে, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ‘হাই কালচার’ এবং ‘লো কালচার’-এর মধ্যে একটি বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছে, যেখানে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে প্রগতিশীল এবং অন্য দলগুলোকে পশ্চাৎপদ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই সাংস্কৃতিক ফ্রেমিংয়ের কারণেই দীর্ঘ সময় ধরে ‘ফ্যাসিবাদ’ টিকে থাকতে পেরেছে এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনাগুলো সমাজের একটি অংশের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে অনেকে কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখলেও, তার কাছে এটি মূলত একটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সূচনা। এই পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন বয়ান এবং ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির চর্চা বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পোস্টের শেষাংশে, সাবেক এই সংস্কৃতি উপদেষ্টা জানান যে, দায়িত্ব ছাড়ার আগে তিনি তার উত্তরসূরির জন্য একটি বিস্তারিত ‘নোট টু সাকসেসর’ রেখে গেছেন। সেখানে দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল, শিল্প-সাহিত্যের বৈচিত্র্য এবং সাংস্কৃতিক শিল্পের ইকোসিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সংক্রান্ত বিভিন্ন সুপারিশ উল্লেখ করেছেন বলেও তিনি জানান। #বাংলাদেশ #সংস্কৃতি #ইতিহাসচর্চা #মোস্তফা_সরয়ার_ফারুকী