মুলাদীতে চাঁদা না দেওয়ায় ঠিকাদারকে মারধর: দুই সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

বরিশালের মুলাদীতে চাঁদা না দেওয়ায় এক স্যানিটারি ঠিকাদারকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে দুই সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে। গত রোববার বিকেল ৪টার দিকে মুলাদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ঠিকাদার ইসরাফিল আকন এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িচালক জহির উদ্দীন এবং সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িচালক শামিম হোসেনের বিরুদ্ধে মুলাদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঠিকাদার ইসরাফিল আকন জানান, তিনি মুলাদী সরকারি কর্মচারী আবাসিক ভবনে স্যানিটারি সংস্কারের কাজ করছিলেন। রোববার দুপুরে অভিযুক্ত জহির উদ্দীন ও শামিম হোসেন তার কাছে "মিষ্টি খাওয়ার খরচ" বাবদ টাকা দাবি করেন। ইসরাফিল সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে কাজ বন্ধ রাখতে বলেন।
বিকেল ৪টার দিকে একটি গ্রিল ঝালাইয়ের দোকানে যাওয়ার পথে জহির ও শামিম তার পথ রোধ করেন এবং টাকা না দেওয়ার কারণ জানতে চান। ইসরাফিল জানান, ছোট কাজের জন্য তিনি কোনো টাকা দিতে পারবেন না। এরপরই দুজনে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মেরে তাকে এবং তার সহযোগী সাব্বির হাসানকে আহত করেন। পরে পার্শ্ববর্তী লোকজন তাদের উদ্ধার করে মুলাদী হাসপাতালে ভর্তি করে।
তবে, অভিযুক্ত গাড়িচালক জহির উদ্দীন চাঁদা দাবি ও ঠিকাদারকে মারধরের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ঠিকাদার কোয়ার্টারে কাজ করার সময় নারীদের সঙ্গে অশালীন ব্যবহার ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেছেন। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিচার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। জহির উদ্দীন মনে করেন, ঠিকাদার বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে চাঁদা ও মারধরের মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।
মুলাদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মমিন হোসেন জানিয়েছেন, দুই সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম সরওয়ার (বর্তমানে ছুটিতে) বলেন, সরকারি কর্মচারী কিংবা অন্য কারও চাঁদা দাবি করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।