ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু: মোট মৃতের সংখ্যা ৪৩

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর জীবনপ্রদীপ নিভে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলোর সাথে যুক্ত হয়ে চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সময়ে হাসপাতালে হাম আক্রান্ত ও সন্দেহজনক হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৪৩-এ উন্নীত হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিগত ২৪ ঘণ্টায় হাম ওয়ার্ডে নতুন করে ৩৮ জন হামের রোগী ভর্তি হয়েছেন। এই একই সময়ে, কোনো রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। বর্তমানে, হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে মোট ১১৬ জন রোগী নিবিড় পর্যবেক্ষণে ও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম ইউনিটের ফোকাল পারসন, ডা. ঝন্টু সরকার, এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, মৃত দুই শিশুর মধ্যে একজন কিশোরগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। চার মাস বয়সী এই শিশুটি গত ২২ মে রাত ১টা ৩০ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। তবে, সকল চিকিৎসা সত্ত্বেও ২৯ মে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে সে মৃত্যুবরণ করে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সন্দেহজনক হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া, হৃদযন্ত্রের অকার্যকারিতা (হার্ট ফেইলিউর) এবং মেনিনজাইটিসের মতো গুরুতর জটিলতাগুলো তার মৃত্যুর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহের সদর উপজেলার আকুয়া এলাকার তিন মাস ১৫ দিন বয়সী আরেকটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটি গত ২৫ মে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল এবং ২৯ মে বেলা ১১টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। হাসপাতালের রেকর্ডপত্র অনুযায়ী, সন্দেহজনক হামের সঙ্গে নিউমোনিয়া এবং সেপটিক শক এই অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম বিষয়ক সর্বশেষ পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৭০৮ জন হামের রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এদের মধ্যে ১ হাজার ৫৪৯ জন রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
#ময়মনসিংহ #মেডিকেলকলেজ #হাম #শিশুস্বাস্থ্য #মৃত্যুহার