নাগরিক সেবায় গতি আনতে সরকারি কর্মকর্তাদের অফিসে বাধ্যতামূলক উপস্থিতি

নাগরিক সেবা প্রদান, প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা এবং আন্তঃদপ্তর সমন্বয় বাড়াতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক পরিপত্র অনুযায়ী, এখন থেকে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত আবশ্যিকভাবে নিজ অফিস কক্ষে অবস্থান করতে হবে।
এই নির্দেশনা জারির মূল উদ্দেশ্য হলো, কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর নির্ধারিত সময়ে অফিসে অনুপস্থিতির কারণে সৃষ্ট যোগাযোগ ব্যাহত হওয়া এবং নাগরিক সেবা প্রদানে বিঘ্ন দূর করা। এর আগে ২০১৯ ও ২০২১ সালেও এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করা হয়েছিল।
পরিপত্রে 'সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯' এবং 'সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০২৪' অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে দপ্তরে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
তবে কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য হবে না। যেমন:
- শিক্ষা/প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োজিত নন এমন শিক্ষক/অনুষদ সদস্যরা।
- হাসপাতাল, জেলখানা, সংবাদ বা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে রোস্টার ডিউটিতে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
- জরুরি গ্রাহকসেবায় সরাসরি সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
- মাঠপর্যায়ে নিয়মিত দায়িত্ব পালনকারী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সমরূপ সংস্থার সদস্যরা।
- ভিভিআইপি/ডিআইপি প্রটোকল প্রদান, আকস্মিক বৃহৎ দুর্ঘটনা মোকাবিলা, উন্নয়ন সহযোগী বা কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে অতি গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশগ্রহণ এবং অনুমোদিত সরকারি সফরের ক্ষেত্রে।
এছাড়াও, কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না এবং দাপ্তরিক কাজ ছাড়া অফিস সময়ে নিজ দপ্তর ত্যাগ করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক।