নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে শিশু রোগীর মায়ের ধর্ষণ: ৩ সুইপারের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে এক শিশু রোগীর মায়ের অভিযোগ উঠেছে যে তাকে ধর্ষণের পর সম্মান বাঁচানোর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে তিন সুইপারকে ছেড়ে দিয়েছিল। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সমালোচনার মুখে পড়ে, মঙ্গলবার দুপুরে এই ঘটনায় নাটোর থানায় তিন সুইপারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ মামলা দায়েরের পরপরই অভিযুক্ত তিন সুইপারকে গ্রেপ্তার করেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্তে হাসপাতালে ভর্তি থাকা অন্য রোগী, তাদের আত্মীয়স্বজন এবং সচেতন এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুসারে, নাটোর শহরের একজন রিকশাচালক তার অসুস্থ কন্যা শিশুকে সর্দি ও জ্বরের চিকিৎসার জন্য ৫ জুন নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করান।
রবিবার রাত ১০টার দিকে, হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিযুক্ত এবং শহরের আলাইপুর সুইপার কলোনির বাসিন্দা সুইপার অমিত (২৩) ওষুধ দেওয়ার কথা বলে শিশুটির মাকে কৌশলে ডেকে হাসপাতালের লিফটে করে ছয়তলার সিঁড়িঘরে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
সেই সময়, একইভাবে নিযুক্ত একই মহল্লার বাসিন্দা অপর দুই সুইপার অনিল (২৪) এবং প্রাঙ্গণ (২৩) গোপনে ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে। পরে তারা ঐ নারীকে ভিডিও দেখিয়ে তাদের সাথে শারীরিকভাবে মিলিত হতে বলে, অন্যথায় ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে জানা যায়, হাসপাতালের সিঁড়িঘরে সুইপার অনিল ও প্রাঙ্গণ ঐ নারীকে আবারো ধর্ষণ করে, যদিও প্রথমে এমন কথা বলা হলেও পরে মামলায় তা উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে, শিশুটির মা দীর্ঘ সময় ধরে শিশু ওয়ার্ডে না থাকায় শিশুটির কান্নায় ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাকে খুঁজে না পেয়ে হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীদের সহায়তা নেন। পরে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে তাদের ছয়তলার দিকে যেতে দেখে রাত দুইটার দিকে হাসপাতালের সিঁড়িঘরে গিয়ে তাদের আটক করে নিয়ে আসে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে আটকের সময় হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মাহবুবুর রহমান, আনসার সদস্য আল আমিন এবং সালাহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের সুনাম রক্ষার কথা বিবেচনা করে, শিশু রোগীর মাকে ধর্ষণকারী হাসপাতালের এই তিন সুইপারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয় কর্তৃপক্ষ।
তবে, হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানিয়েছে যে কোনো নিয়ম-নীতি অনুসরণ না করে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়ার কারণে, তিন সুইপারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যরা জানিয়েছেন, আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত তিন সুইপার ধর্ষণ এবং ভিডিও ধারণের কথা স্বীকার করেছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেছেন, মামলায় তার উপস্থিতির যে তথ্য দেওয়া হয়েছে তা সঠিক নয়। তিনি পরের দিন সকালে হাসপাতালে এসে বিষয়টি শুনেছেন। এর আগেই সুইপারদের সঙ্গে রোগীর আত্মীয়দের লিখিত একটি সমঝোতা হয়ে যায়। তারপরও তিনি নাটোর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেছিলেন।
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেছেন, ঘটনা...
#নাটোর #ধর্ষণ #হাসপাতাল #সুইপার