Mymensingh
২৮ ফেব, ২০২৬

নকলায় সারের কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মূল্য: দিশাহারা বোরো চাষিরা

নকলায় সারের কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মূল্য: দিশাহারা বোরো চাষিরা

শেরপুরের নকলা উপজেলায় বোরো চাষিরা ডিএপি সারের কৃত্রিম সংকট এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে সার বিক্রির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে, তবুও ডিলারদের অনিয়ম ও যোগসাজশে কৃষকদের নাভিশ্বাস উঠেছে।

 

জানা গেছে, নকলা উপজেলার বিসিআইসি ও বিএডিসি অনুমোদিত ডিলারদের বিরুদ্ধে সার খালাসসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়মানুযায়ী সার বাফার গোডাউনে না পাঠিয়ে সরাসরি নিজেদের গুদামে খালাস করা হচ্ছে। বাফার গোডাউনে কর্মরত কতিপয় কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে পরিবহন ও পণ্য লোড-আনলোড খরচ কমাতে এই কাজটি করা হয়। এতে যে মুনাফা হয়, তার একটি অংশ বাফার গোডাউন কর্তৃপক্ষের পকেটে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাফার গোডাউনের মোরাদুজ্জামান নামের এক কর্মকর্তা তার প্রভাব খাটিয়ে এই অনিয়মকে মদদ দিচ্ছেন। শুধু শেরপুর নয়, জামালপুরের মতো পাশের জেলার আমদানি করা সারও এখানে মজুত রাখা হয়, যা অনিয়মের সুযোগ তৈরি করে। অনেক সময় বাফার গোডাউনে সার না পাঠিয়ে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এসব সার অতিরিক্ত মূল্যে পাচার করা হয়, যার মুনাফাও গোডাউন কর্তৃপক্ষ ভাগ করে নেয়।

 

সম্প্রতি এই অনিয়মের একটি বড় দৃষ্টান্ত সামনে এসেছে। গত রোববার সকালে নকলায় দুইজন ডিলারের নামে বরাদ্দকৃত প্রায় ৪৯ টন ইউরিয়া সার বাফার গোডাউনে না নিয়ে অবৈধভাবে তাদের গোডাউনে মজুত করার সময় স্থানীয় জনতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা আটক করেন। পরে স্থানীয় কৃষি অফিস ও পুলিশ ট্রাকসহ সার জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

 

কৃষকদের অভিযোগ, ডিলাররা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। তথ্য অনুযায়ী:

  • ডিএপি সার: সরকার নির্ধারিত মূল্য ১০৫০ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ টাকায়।
  • টিএসপি সার: ১৩৫০ টাকার ক্ষেত্রে বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ টাকায়।
  • এমওপি সার: ১০০০ টাকার ক্ষেত্রে বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকায়।
  • ইউরিয়া সার: ১৩৫০ টাকার ক্ষেত্রে বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ টাকায়।

বিশেষ করে ডিএপি সারের চাহিদা বেশি থাকায় ডিলাররা এর কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রেখেছেন, ফলে কৃষকরা সার কিনতে দোকানে দোকানে ঘুরেও পাচ্ছেন না। জালালপুর গ্রামের কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, তিনি ডিএপি সার কিনতে গেলে তাকে সার নেই বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক সাখাওয়াত হোসেন জানান, ডিএপি সারের কোনো সংকট নেই। তবে আমদানিকৃত সার পরিবহনে কিছুটা বিলম্ব হলেও তা কোনো সংকট তৈরি করে না। অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।