পর্যাপ্ত ঘুম: মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি, তরুণদের জন্য জরুরি সতর্কতা

কৈশোর ও যৌবনে ঘুমের ঘাটতি মানসিক ভারসাম্যে গুরুতর প্রভাব ফেলে, যা আগ্রাসী আচরণ এমনকি আত্মহত্যার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। বিশ্ব ঘুম দিবস উপলক্ষে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম এখন স্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে।
ওয়ার্ল্ড স্লিপ সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ঘুম মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অন্যতম ভিত্তি। সাধারণত শৈশব ও কৈশোরে প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তবে বিশ্বজুড়ে গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ কিশোর-কিশোরী পর্যাপ্ত ঘুমায় না। আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭৩ শতাংশ হাইস্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী দিনে আট ঘণ্টার কম ঘুমায়।
ঘুমের ঘাটতির প্রধান কারণ ও প্রভাব:
- কারণ: পড়াশোনার চাপ, রাত জেগে ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহার এবং ঘুমের সময়ের পরিবর্তন।
- প্রভাব: দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশে প্রভাব ফেলে, নেতিবাচক আবেগের প্রতি মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আগ্রাসী আচরণ বা আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়। সমীক্ষায় দেখা গেছে, দিনে সাত ঘণ্টার কম ঘুমানো কিশোর-কিশোরীর মধ্যে আগ্রাসী আচরণের প্রবণতা দেড় থেকে দ্বিগুণ বেশি। ঘুমের সমস্যা ও আত্মহত্যার ঝুঁকির মধ্যেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
স্লিপ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সৌরভ দাস এবং স্লিপ অ্যাপনিয়া বিশেষজ্ঞ উত্তম আগরওয়াল জোর দিয়েছেন যে, ঘুমের অভাব এখন একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। মানসিক স্থিতি, উৎপাদনশীলতা এবং জীবনের সামগ্রিক মান বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্লিপ অ্যাপনিয়া ও সুস্থ ঘুমের অভ্যাস:
বিশেষজ্ঞরা স্লিপ অ্যাপনিয়াকে একটি গুরুতর অসুস্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। নাক ডাকা শুধু সামাজিক সমস্যা নয়, এটি অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার সতর্কবার্তা হতে পারে। আধুনিক চিকিৎসায় স্লিপ এন্ডোস্কপি, ওরো-মায়োফাংশনাল থেরাপি, সি-প্যাপের বিকল্প এবং নতুন সার্জিক্যাল পদ্ধতির মাধ্যমে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
সুস্থ ঘুমের জন্য সহজ অভ্যাস:
- নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো।
- শোয়ার আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমানো।
- দেরিতে ক্যাফেইন এড়ানো।
- নিয়মিত শরীরচর্চা করা।
#ঘুমেরঘাটতি #মানসিকস্বাস্থ্য #তরুণদেরঘুম #স্লিপঅ্যাপনিয়া #বিশ্বঘুমদিবস