পশুর হাটে গরু বিক্রেতা খুন: টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

কোরবানির পশুর হাটে এক গরু বিক্রেতাকে পিটিয়ে হত্যা এবং তার নিকট থেকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে হাটের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার ভোররাতে ধামরাই আশুলিয়ার সীমানাবর্তী শিমুলিয়া ইউনিয়নের পাড়াগ্রাম এলাকায় অবস্থিত অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটে।
নিহত শহীদুল্লাহ কায়সার (৫০) ধামরাইয়ের বাইশাকান্দা ইউনিয়নের মঙ্গলবাড়ী এলাকার মৃত মতিয়ার রহমানের পুত্র এবং তিনি পেশায় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিহত শহীদুল্লাহ তার ভাই মাসুদ রানা এবং ভাগ্নে ফিরোজ কবিরের সাথে মোট ১৮টি গরু ও দুটি ছাগল নিয়ে হাটে উপস্থিত হয়েছিলেন। তাদের বিক্রির জন্য আনা পশুগুলোর মধ্যে ১৪টি গরু ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। অবশিষ্ট চারটি গরু বিক্রির জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় ছিল।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন অন্য একজন ব্যক্তি তাদের নির্দিষ্ট পশু বাঁধার স্থানে এসে নিজেদের গরু বাঁধতে চেষ্টা করে। শহীদুল্লাহর ভাগ্নে ফিরোজ কবির এর প্রতিবাদ জানালে, সেই ব্যক্তি এবং হাটের কর্তৃপক্ষ স্থানীয় কিছু লোকজন মিলে ফিরোজ এবং শহীদুল্লাহর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের ভাগ্নেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন শহীদুল্লাহ কায়সার এবং তার ভাই মাসুদ রানা। এই সময় তাদের বেধড়ক মারধর করা হয় এবং তাদের সাথে থাকা প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। গুরুতরভাবে আহত অবস্থায় শহীদুল্লাহ কায়সারকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাগ্নে ফিরোজ কবির ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘আমার মামার গরু এই পশুর হাটে বিক্রি করতে এসেছিলাম। সে সময় অন্য একজন একই জায়গায় গরু বাঁধতে এলে আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। আমার মামা প্রতিবাদ করলে হাটের কিছু লোক এবং আশপাশের আরও কয়েকজন এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় আমি প্রথমে আক্রান্ত হই। আমাকে বাঁচাতে গেলে আমার মেজো মামার ওপরও হামলা করা হয়। ওই সময় আমার ছোট মামার কাছে গরু বিক্রির ৫ লক্ষ টাকা এবং মেজো মামার কাছে দুটি ছাগল বিক্রির ৪০ হাজার টাকা ছিল। হামলাকারীরা সেই টাকাগুলো নিয়ে যায়। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় আমরা মামাকে দ্রুত ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
নিহতের ভাই মাসুদ রানা জানান, ‘আমি ওষুধের দোকানে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি হাটে ঝগড়া চলছে। পরে বুঝতে পারি আমার ভাগনের সঙ্গে কয়েকজনের মারামারি হচ্ছে। ভাগনেকে বাঁচানোর জন্য আমি সবাইকে থামানোর চেষ্টা করি। তাদের বারবার বলি, ভাই থামেন, মারধর করবেন না, আমি দেখতেছি। সে সময় হাটের একটি স্থানে কয়েক মিনিট ধরে আমার ভাগনেকে মারধর করা হয়। পরে আরও ১৫ থেকে ২০ জন সেখানে জড়ো হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা পাশের একটি হোটেলের ভেতরে ঢুকে পড়ে। আমি তাদের পেছনে গিয়ে আবারও পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি। কিন্তু কেউ আমার কথা শোনেনি। পরে আবার আমার ভাগনেকে মারধর করে। একপর্যায়ে আমি নিজের লুঙ্গিতে কোমরের কাছে হাত দিয়ে দেখি, আমার কাছে থাকা ৫ লক্ষ টাকা নেই। মারধরের ঘটনার মধ্যেই ওই টাকা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপরই আমার ভাই অচেতন হয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান, তিনি মারা গেছেন।’
এ বিষয়ে হাট ইজারাদারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
ধামরাই থানার এসআই কাজী রেজাউল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।’#গরু_বিক্রেতা_হত্যা #টাকা_ছিনতাই #ধামরাই_হাট