পুঁজিবাজারে অনিয়ম প্রকাশে ১০ কোটি টাকা প্রণোদনা ও সুরক্ষা: বিএসইসি'র নতুন বিধিমালা

পুঁজিবাজারের অনিয়ম রোধে তথ্য প্রকাশকারী বা হুইসেল ব্লোয়ারদের সুরক্ষা ও আর্থিক প্রণোদনা দিতে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। 'পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ ও তথ্য প্রকাশকারীর (হুইসেল ব্লোয়ার) সুরক্ষা বিধিমালা, ২০২৬'-এর খসড়া অনুযায়ী, তথ্য প্রকাশকারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যদি অর্থদণ্ড বা জরিমানা আদায় হয়, তাহলে তিনি সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা পেতে পারেন। এই প্রণোদনার পরিমাণ আদায়কৃত জরিমানা বা অর্থদণ্ডের ২৫ শতাংশের বেশি হবে না।
এই বিধিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো পুঁজিবাজারে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য প্রকাশকারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, যাতে তারা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন। এর ফলে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এটি সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিএসইসি কর্মকর্তারা।
বিধিমালায় তথ্য প্রকাশকারীর সুরক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে:
- তথ্য প্রকাশকারীর সম্মতি ছাড়া এবং আইনি কার্যধারার কারণে অন্যরূপ প্রয়োজন না হলে, তার পরিচিতি প্রকাশ করা হবে না।
- কোনো চাকরিজীবী তথ্য প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে পদাবনতি, হয়রানিমূলক বদলি, বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরিচ্যুতি বা কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না।
- তথ্য প্রকাশকারীকে কোনো মামলায় সাক্ষী করা যাবে না এবং মামলার কার্যক্রমে এমন কিছু প্রকাশ করা যাবে না, যাতে তার পরিচয় প্রকাশ পায়।
- মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ সংশ্লিষ্ট দলিলে তথ্য প্রকাশকারীর পরিচয় লিপিবদ্ধ থাকলে, আদালতে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সে অংশ গোপন রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিধিমালা অনুযায়ী, বিএসইসির নিবন্ধিত কোনো বাজার মধ্যস্থতাকারী, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, ইস্যুয়ার, নিবন্ধিত ফান্ড বা স্পেশাল পারপাস ভেহিকেলের (এসপিভি) কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য বা নিরীক্ষক অথবা এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত যেকোনো ব্যক্তি তথ্য প্রকাশকারী হিসেবে বিবেচিত হবেন।
যেসব বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করা যাবে, তার মধ্যে রয়েছে—সিকিউরিটিজ আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘন, প্রতারণামূলক কার্যক্রম, সুবিধাভোগী ব্যবসা (ইনসাইডার ট্রেডিং), বাজার কারসাজি, অর্থ আত্মসাৎ, অর্থের অপব্যবহার এবং অর্থ পাচার। তথ্য প্রকাশের জন্য একটি নির্দিষ্ট ছক (ফরম-১) পূরণ করে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। তথ্য প্রকাশকারীর পরিচয় গোপন রাখতে সাংকেতিক নাম বা কোড নম্বর ব্যবহার করে রেজিস্টারে (ফরম-২ ও ফরম-৩) তথ্য লিপিবদ্ধ করা হবে।
খসড়া বিধিমালাটি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএসইসির কমিশন সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এটি জনমত যাচাইয়ের জন্য বিএসইসির ওয়েবসাইটে ও জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ করা হবে। প্রকাশের দুই সপ্তাহের মধ্যে এই বিধিমালা সম্পর্কে মতামত, পরামর্শ বা আপত্তি জানানো যাবে। জনমতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন সাপেক্ষে এটি চূড়ান্ত হওয়ার পর গেজেট আকারে প্রকাশিত হলে কার্যকর হবে।