National
১২ মার্চ, ২০২৬

রাজধানীতে মশার ভয়াবহ উপদ্রব: ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি, নাগরিক অসন্তোষ

রাজধানীতে মশার ভয়াবহ উপদ্রব: ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি, নাগরিক অসন্তোষ

রাজধানীতে মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যা ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই মৌমাছির ঝাঁকের মতো মশা ছড়িয়ে পড়ছে বাসাবাড়ি, সড়ক ও খোলা জায়গায়। নগরবাসী অভিযোগ করছেন যে, মশার উৎপাত বাড়লেও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।

 

তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে মূলত তিন প্রজাতির মশার বিস্তার রয়েছে—কিউলেক্স, এডিস ও অ্যানোফিলিস। শুষ্ক মৌসুমে শীত কম থাকা এবং দ্রুত তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে কিউলেক্স মশার বিস্তার দ্রুত বাড়ে, যা নর্দমা ও জলাশয়ের দূষিত পানিতে প্রজনন করে। বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু এবং অ্যানোফিলিস মশার মাধ্যমে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

 

রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা, বনশ্রী, শান্তিনগর, মালিবাগ, শাহবাগ, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকার পরিস্থিতি বেশ নাজুক। লেক, ঝিল, জলাশয় ও ডোবায় প্রচুর মশা জন্ম নিচ্ছে। অনেক জায়গায় ড্রেনেজ সংস্কারের কাজ চলায় পয়োবর্জ্য ও ময়লা জমে মশার লার্ভা তৈরি হচ্ছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে, বিকাল হলেই দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে হয় এবং শিশুদের মশারির ভেতরে রাখতে বাধ্য হতে হয়। মালিবাগের বাসিন্দা রুবেল আহমদ এবং বনশ্রীর বাসিন্দা মেহেদি হাসান অভিযোগ করেন যে, কয়েল, অ্যারোসল, বৈদ্যুতিক ব্যাট বা মশারি ব্যবহার করেও স্বস্তি মিলছে না। তারা অপরিচ্ছন্ন ড্রেন, নির্মাণাধীন স্থানে জমে থাকা পানি এবং জলাবদ্ধতাকে মশার প্রধান প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন।

 

এদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ শুরু করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোয় মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে এবং ফগিং, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, মশক নিধনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ চলছে। নাগরিকদের সচেতন না হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

 

অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম বলেছেন, শুধু মশার ওষুধ ছিটিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কার্যকর নিয়ন্ত্রণের জন্য সামাজিক সচেতনতা ও নিয়মিত মনিটরিং বৃদ্ধি করতে হবে।

 

#মশারউপদ্রব #ঢাকা #ডেঙ্গু #চিকুনগুনিয়া #সিটিকরপোরেশন