রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করবে সরকার: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্র তার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা প্রদান করবে, যাতে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হতে পারে। তবে, তিনি উল্লেখ করেন যে দেশব্যাপী বিচারক এবং আইনজীবীদের ঘাটতির কারণে প্রায়শই বিচারিক কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হয়।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের পর স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ন্যাশনাল কনজারভেটিভ পার্টি (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ কর্তৃক আইন মন্ত্রণালয় আদালত নিয়ন্ত্রণ করে এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহর মন্তব্য আদালত অবমাননার সামিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে বিচারক এবং বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন। বিচারকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার কারণেই এনসিপি নেতারা মামলায় গ্রেপ্তারের পরদিনই জামিন পেতে সক্ষম হয়েছেন।
আইনমন্ত্রী দাবি করেন যে বাংলাদেশের বিচারকরা অন্য যেকোনো দেশের বিচারকদের তুলনায় অধিক স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করতে পারেন। তিনি বলেন, “আমাদের বিচারব্যবস্থায় মামলার দীর্ঘসূত্রিতা একটি বড় সমস্যা। এর প্রধান কারণ হলো বিচারকের অভাব। একই সঙ্গে আইনজীবীর সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনজীবী না থাকায় মামলার জট কমানো কঠিন হয়ে পড়ছে।”
এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ এবং নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, সম্প্রতি ঝিনাইদহে এনসিপি নেতাকর্মীদের সাথে যা ঘটেছে, সেখানে পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল না। বিচারকরাও এই বিষয়ে স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। অতএব, এসব বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই তারা এই ধরনের মন্তব্য করছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে আইনমন্ত্রী শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি মাসিক সমন্বয় সভায় অংশগ্রহণ করেন। এ সময় শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল মামুন সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। #রামিসাকাণ্ড #দ্রুতবিচার #আইনমন্ত্রী #বাংলাদেশ