স্বাস্থ্য
২৬ ফেব, ২০২৬
রান্নাঘরে গ্যাসের গন্ধ? জানুন করণীয় ও প্রতিরোধের উপায়

বাসাবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কারণ হলো গ্যাস লিকেজ। রান্নাঘরে গ্যাসের সামান্য গন্ধও বড় দুর্ঘটনার ইঙ্গিত হতে পারে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মতে, সচেতনতা এবং দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ গ্যাসজনিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে পারে।
গ্যাস লিকের লক্ষণসমূহ:
- রান্নাঘরে তীব্র গ্যাসের গন্ধ পাওয়া।
- চুলা বন্ধ থাকলেও শোঁ শোঁ শব্দ শোনা।
- সিলিন্ডার বা লাইনের সংযোগস্থলে সাবান পানি দিলে বুদবুদ দেখা যাওয়া।
- হঠাৎ মাথা ঘোরা বা বমিভাব অনুভব করা।
এই লক্ষণগুলো দেখা গেলে অবহেলা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
গ্যাস লিক হলে করণীয়:
- আগুন বা বৈদ্যুতিক সুইচ ব্যবহার করবেন না: ঘরে গ্যাস জমে থাকলে সামান্য স্পার্ক থেকেও বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তাই লাইট জ্বালানো, ফ্যান চালানো বা চার্জার লাগানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
- গ্যাসের মূল ভালভ বন্ধ করুন: সিলিন্ডার বা লাইনের মেইন ভালভ দ্রুত বন্ধ করে দিন। সম্ভব হলে রেগুলেটর খুলে ফেলুন।
- দরজা-জানালা খুলে দিন: ঘরে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করলে জমে থাকা গ্যাস দ্রুত বের হয়ে যায়। প্রাকৃতিক বাতাস চলাচলই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
- আগুন দিয়ে লিক পরীক্ষা নয়: দেশলাই বা লাইটার জ্বালিয়ে গ্যাস লিক পরীক্ষা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর পরিবর্তে সাবান পানির ফেনা ব্যবহার করে সংযোগস্থলে বুদবুদ হচ্ছে কি না দেখুন।
- প্রয়োজনে জরুরি সহায়তা নিন: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ বা নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনে যোগাযোগ করুন।
গ্যাস লিক প্রতিরোধে করণীয়:
- অনুমোদিত ও মানসম্মত সিলিন্ডার ও রেগুলেটর ব্যবহার করুন।
- সিলিন্ডার সবসময় সোজা অবস্থায় খোলা জায়গায় রাখুন।
- রান্না শেষে গ্যাসের ভালভ বন্ধ করুন।
- নির্দিষ্ট সময় পরপর পাইপ ও সংযোগ পরীক্ষা করুন।
- পুরোনো বা মেয়াদোত্তীর্ণ রাবার হোস বদলে ফেলুন।
- সিলিন্ডার কখনো বদ্ধ আলমারি বা নিচু গর্তের মতো স্থানে রাখা উচিত নয়।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, অধিকাংশ গ্যাস বিস্ফোরণ অসাবধানতা ও নিরাপত্তা বিধি না মানার কারণে ঘটে। সামান্য ভুলও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। আপনার সচেতনতাই আপনার পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। গ্যাসের গন্ধ পেলেই সতর্ক হন এবং নিয়মিত সংযোগ পরীক্ষা করুন – সচেতন থাকুন, নিরাপদ থাকুন।