রাসায়নিক বালাইনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব রোধে জৈব পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান

যথেচ্ছভাবে বালাইনাশক ব্যবহারের ফলে পরিবেশ এবং মানবস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। এই বিপদ থেকে উত্তরণের জন্য জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। বৃহস্পতিবার খামারবাড়িতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির ৯০তম (বিশেষ) সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
মন্ত্রী আরও বলেন, রাসায়নিক বালাইনাশক পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের জন্য যেমনি ক্ষতিকর, তেমনি যেকোনো বালাইনাশকের প্রয়োগ শতভাগ বিজ্ঞানসম্মত হওয়া উচিত। মাটি ও জলজ বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিকতা বজায় রেখে বালাইনাশক উৎপাদন, অনুমোদন, বিপণন এবং ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। জৈব বালাইনাশকের উৎপাদন ও ব্যবহারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করার পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে কীট-পতঙ্গ দমনের পদ্ধতিগুলোকেও অধিকতরভাবে কাজে লাগাতে হবে।
কৃষিকে রপ্তানিমুখী করে দেশের অর্থনীতিকে স্থায়ীভাবে শক্তিশালী করার সরকারি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিল্প পর্যায়ে কৃষিপণ্য রপ্তানির লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমাদের প্রথম এবং প্রধান কাজ হলো বিশ্বকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করা যে, আমাদের উৎপাদিত পণ্য মানব স্বাস্থ্যের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। মন্ত্রী মনে করেন, এই দেশের আলো, বাতাস, বৃষ্টি এবং মাটি – সবকিছুই বিশ্বের মধ্যে সর্বোত্তম মানের সুস্বাদু শাক-সবজি ও খাদ্য উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। তবে, দুঃখজনকভাবে আমরা এখনো সেই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছি না।
দেশে বালাইনাশকের ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে পেস্টিসাইডের মাননিয়ন্ত্রণ (কোয়ালিটি কন্ট্রোল) ব্যবস্থা চালু থাকলেও, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য রপ্তানির জন্য এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। আজকের শিশু এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য একটি বিশুদ্ধ পরিবেশ অপরিহার্য। মাটির হেভি মেটাল মুক্তকরণ এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পেস্টিসাইড মাননিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির কার্যকারিতা এবং বাজারে এর প্রভাব সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা প্রয়োজন।
#জৈববালাইনাশক #পরিবেশসুরক্ষা #কৃষিমন্ত্রী #নিরাপদখাদ্য