রংপুরের বদরগঞ্জে যমুনেশ্বরী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন: সেতু-সড়ক-বাঁধ হুমকির মুখে, জড়িত আ.লীগ-বিএনপি নেতারা ও পুলিশ!

রংপুরের বদরগঞ্জে যমুনেশ্বরী নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, যা স্থানীয় সেতু, মহাসড়ক ও বাঁধকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একদল নেতাকর্মী পুলিশের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই অবৈধ বালু ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অবৈধ বালু উত্তোলনের চিত্র:
- বদরগঞ্জের কুতুবপুর ইউনিয়নের দালালপাড়ায় আওয়ামী লীগ নেতা নাহিদ লিখন এবং বিএনপি নেতা অহিদুল হকের বিশাল বালুর পয়েন্ট রয়েছে।
- নদীর মাঝখানে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে লম্বা পাইপ দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে।
- প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বালুবাহী ট্রাক্টরগুলো ব্যস্ততম সড়ক ধরে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে, যা পরিবেশ দূষণ ও দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে।
ভয়াবহ প্রভাব:
- যমুনেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত সেতু, রংপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের মিঠাপুকুর-ফুলবাড়ি মহাসড়ক এবং সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গ্রাম প্রতিরক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে।
- বালুবাহী গাড়ির কারণে এলজিইডির পাকা সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা চলাচলের অনুপযোগী।
- বালুবাহী ট্রাক্টর ও ড্রেজার মেশিনের বিকট শব্দে নদীপাড়ের মানুষ ঘুমাতে পারে না।
- ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীসহ সাধারণ মানুষ সবসময় দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকে।
- গত ৯ ফেব্রুয়ারি কুতুবপুর অরুন্নেছা এলাকার একটি বালুর গর্তে পড়ে ৮ বছরের শিশু সিয়ামের মৃত্যু হয়।
- বালুখেকোরা প্রতিবাদকারীদের মামলা-হামলার হুমকি দেয় এবং সাংবাদিকদের হয়রানি করে।
প্রশাসনের ভূমিকা ও জনরোষ:
রংপুর সওজ, এলজিইডি এবং পাউবোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বালুখেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশকে সাপ্তাহিক মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয় এবং অভিযানের খবর আগেই বালু ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে যায়। বদরগঞ্জ থানার ওসি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিযোগ অস্বীকার করলেও বালু উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না। স্থানীয়রা মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও স্মারকলিপি দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। এমনকি বিক্ষুব্ধ জনতা বালু তোলার ড্রেজার মেশিনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এবং ট্রাক্টর ভাঙচুর করেছে।